নতুন বছরের শুরুতে আমরা বড় বড় অনেক লক্ষ্য ঠিক করি। যেমন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, বেশি ব্যায়াম করা, ভালো ঘুমানো। কিন্তু যখন সারাদিন সতেজ ও ক্লান্তিহীন থাকার জন্য কী করতে হবে, সেকথা আমরা খুব কমই ভেবে থাকি। অতিরিক্ত কফি বা উচ্চ মাত্রার চিনির মতো দ্রুত সমাধানের পেছনে না ছুটে, অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এখন ধারাবাহিকতা, পুষ্টি এবং সময় নির্ধারণের ওপর জোর দেন। দৈনন্দিন শক্তির মাত্রা উন্নত করার জন্য ৫টি খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জেনে নিন-
১. অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে আনুন
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার সুবিধা, শেলফ লাইফ এবং তাৎক্ষণিক তৃপ্তির জন্য তৈরি করা হয়, কিন্তু এ ধরনের খাবার স্থিতিশীল শক্তি বজায় রাখতে যথেষ্ট নয়। প্যাকেটজাত রুটি, প্রোটিন বার, স্বাদযুক্ত দই, রেডি স্মুদি, মিষ্টি কফির মতো খাবারে ফাইবার কম এবং পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে। এতে অতিরিক্ত চিনিও থাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিয়ে তার বদলে স্বাস্থ্যকর কিছু খাওয়ার অভ্যাস করুন।
২. উচ্চ প্রোটিনযুক্ত নাস্তাকে অগ্রাধিকার দিন
জ্যাম, চিনিযুক্ত সিরিয়াল, পেস্ট্রি ইত্যাদির মতো অনেক সাধারণ নাস্তায় প্রচুর কার্বোহাইড্রেট থাকে কিন্তু প্রোটিন এবং ফাইবার থাকে না। যদিও এগুলো দ্রুত শক্তির উৎস হতে পারে, তবে এই বৃদ্ধি খুব কমই স্থায়ী হয়। প্রোটিন সমৃদ্ধ নাস্তা হজম প্রক্রিয়া ধীর করতে, রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থিতিশীল করতে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ডিম, টক দই, বিনস বা টোফু স্ক্র্যাম্বলের মতো সহজ খাবার বেছে নিতে পারেন।
৩. সবুজ শাক-সবজি খান
প্রতিটি খাবারে সবুজ শাক-সবজি যোগ করা উচ্চাভিলাষী শোনাতে পারে, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদী শক্তি এবং স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী অভ্যাসসের মধ্যে একটি। পাতাযুক্ত সবুজ শাক-সবজি ফাইবার, ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম এবং প্রদাহ-বিরোধী যৌগ সমৃদ্ধ। গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিদিন একবার পাতাযুক্ত সবুজ শাক-সবজি খেলেও মস্তিষ্কের অবক্ষয় ধীর হয়ে যায়।
৪. প্রতি খাবারে তিন ভাগ ফল বা সবজির লক্ষ্য রাখুন
এই অভ্যাসটি সীমাবদ্ধতা থেকে সংযোজনের দিকে মনোযোগ পরিবর্তন করে। কী বাদ দেবেন তা জিজ্ঞাসা করার পরিবর্তে আরও কী যোগ করতে পারেন সেদিকে মনোযোগী হতে পারবেন। প্রতি খাবারে তিন ভাগ ফল বা সবজির ব্যবহার আপনাকে সারাদিন ধরে শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
৫. আগেভাগে রাতের খাবার খান
দেরিতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস আছে অনেকেরই। বিশেষ করে দীর্ঘ কর্মদিবসের পর দ্রুত রাতের খাবার খাওয়া অনেকের জন্যই সম্ভব হয়ে ওঠে না। যার ফলে হজম, ঘুম ইত্যাদিতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সম্ভব হলে বিকেল ৫টা বা ৬টার দিকে (অথবা কমপক্ষে ৭টার মধ্যে) রাতের খাবার শেষ করার লক্ষ্য রাখুন।