ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে বলে মনে করেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভেনেজুয়েলায় উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সেই উত্তেজনার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ যুক্তরাষ্ট্রের শনিবারের সামরিক অভিযান এবং মহাসচিবের আশঙ্কা, এ অভিযানের জেরে অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।”
“নিরপেক্ষভাবে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি বিচার-বিবেচনা করলে বলতে হয়, এ অভিযানের মাধ্যমে একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মানবোধের অভাব মহাসচিবকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তিনি সবাইকে জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পূর্ণ সম্মান ও সমর্থন প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন।”
“সেই সঙ্গে মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করতে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন মহাসচিব।”
পৃথক এক বার্তায় জাতিসংঘেল মানবাধিকার বিষয়ক অঙ্গসংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রধান ফলকার তুর্ক বলেছেন, “ভেনিজুয়েলার জনগণের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরবর্তী যেকোনো পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা এটিই দেবে।”
জাতিসংঘের সবচেয়ে প্রভাবশালী অঙ্গসংস্থা নিরাপত্তা পরিষদসূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে পরিষদ। সেই বৈঠকে ভেনেজুয়েলার জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলকেও আহ্বান জানানো হয়েছে।
গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় শেষ রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন বিমান বাহিনী। ইতোমধ্যে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে ফেডারেল হেফাজতে রাখা হবে তাদের।
শনিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, মাত্র চার দিন আগে তিনি এ অভিযানের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন।