জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের যুবকরা তো আমাদের কাছে বেকার ভাতার দাবি করছে না। তাদের দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে না তুলে কেন বেকার ভাতার গল্প শোনাব? তাদের হাতকে দেশ গড়ার মজবুত কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব। হাতে হাতে সম্মানের কাজ তুলে দেব।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে বলতে পারি, বাংলাদেশের মানুষ একটা পরিবর্তন চায়। আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশের মানুষ একটা পরিবর্তন দেখতে চাচ্ছে।
তিনি বলেন, যুবকদের কাজের উপযোগী না করে, দক্ষ জনবল না করে কেন বেকার ভাতার গল্প শোনাব? যুবকরা তো মিছিল নিয়ে এসে আমাদের কাছে বেকার ভাতার দাবি করছে না। এই যুবক-যুবতীদের হাতকে দেশ গড়ার মজবুত কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব, হাতে হাতে সম্মানের কাজ তুলে দেব। তারা সেদিন বলবে আমি বাংলাদেশ। আমরা সেই গর্বিত বাংলাদেশ গড়তে চাই, এই দেশ তাদের হাতেই তুলে দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, ১২ তারিখের পর ১৩ তারিখ যে পরিবর্তন আসবে তা আসবে যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষার ওপর ভর করে। আর কোনো আধিপত্য মানব না, ফ্যাসিবাদ মানব না, আর কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না।
তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় আমরা আমূল পরিবর্তন করতে চাই। এ শিক্ষা দিয়ে কিছুই হবে না। বেটার এডুকেশন বেটার নেশন। এডুকেশন ভালো না হলে ভালো জাতি গড়তে পারব না। এই এডুকেশন না দুনিয়া, না আখিরাত কিছুই কাভার করে দেয় না। এখানে বড় পরিবর্তন লাগবে।
জনসভায় আরও উপস্থিত আছেন— কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী ও জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, ডাকসুর ভিপি সাদেক কায়েম প্রমুখ।
জনসভাকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাঠে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক জমায়েত লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার জামায়াতের আমির কুমিল্লায় একাধিক নির্বাচনি কর্মসূচিতে অংশ নেন। সন্ধ্যা ৬টায় কুমিল্লার লাকসাম স্টেডিয়ামে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেওয়ার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আরেকটি জনসভায় বক্তব্য দেন।