প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) এবং গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, দলের তো প্রতীক থাকবে গণভোটের প্রতীক কি? গণভোটের প্রতীক আছে। গণভোটের প্রতীক টিক চিহ্ন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটরিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মানুষকে বোঝান যদি মৌলিক পরিবর্তনকে আইনি ভিত্তি সাংবিধানিক ভিত্তি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে হয় তাহলে গণভোটে অন্যতম বিষয় হচ্ছে যে এরমধ্যে দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলেও নির্বাচিত হবে। মানুষের কাছে যে প্রশ্নটা বড় সেটা তো সবসময় আমার কি হবে? একই সঙ্গে এটাও প্রশ্ন আমার সন্তানের কি হবে? আপনার সন্তানকে আরেকবার রাজপথে গুলি খেয়ে মরুক তা চান? আপনি কি চান এদেশে একটা দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থার জন্য প্রতিষ্ঠান তৈরি হোক?
তিনি আরও বলেন, সকলকে উৎসাহিত করুন। কারণ কি? কারণ হচ্ছে বিভিন্ন মত এবং পথ নিয়ে বাংলাদেশ। আমরা ধর্মের দিক থেকে বর্ণের দিক থেকে এক অর্থে অঞ্চলের ভিত্তিতে বিভিন্ন ভাবে আমরা আসলে একটা বহুমাত্রিক দেশ। ফলে মতের পার্থক্য থাকবে কিন্তু আমাদের এটাও এক জায়গায় আসতে হবে। আমরা ভবিষ্যৎ কিরকম ভাবে তৈরি করতে চাই? ৫৪ বছর খুব কম সময় নয়, বহুবার আন্দোলনে আমাদের প্রাণ গেছে। বহুবার নির্বাচনে আমরা ভোট দিয়ে প্রত্যাশা করেছি পরিবর্তনের আবার আমাদের সামনে সেই সুযোগ এসে। সেই সুযোগ খুব সহজে আসে না, অনেক প্রাণের বিনিময়ে অনেক কষ্টের অনেক নিপীড়নের মধ্যেদিয়ে আমরা এখানে এসেছি। আসেন এই সুযোগ যেন আমরা হেলাফেলা না করি আসুন আমরা সকলে মিলে সকলকে বলি বোঝাই।
তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমি নিশ্চিত মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন। তাদের দরকার একটি পথরেখা। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতেই আসলে এই জুলাই জাতীয় সনদ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তৈরি হয়ে গেছে। গণভোটের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো কি বলল, না বলল, তার সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে- যে সমস্ত বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনরকম ভিন্নমত ছিল না সেটা হচ্ছে গণভোট। কোনোরকম ভিন্নমত ছিলো না। তারা তাদের নিজের প্রচারের কারণে হয়তো কেউ কেউ খানিকটা মৌনতা থাকবে খানিকটা দ্বিধা থাকবে, থাকতেই পারে। তারা তো ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাদের প্রার্থীদের কথা বলবে।
তিনি বলেন, কেউ আমাকে প্রশ্ন করে, দলের তো প্রতীক থাকবে গণভোটের প্রতীক কি? গণভোটের প্রতীক আছে। সেটা হচ্ছে ঠিক চিন্তা। দলের যেমন প্রতীক আছে, গণভোটের প্রতীক আছে। সবাইকে বলুন গণভোটের প্রতীক টিক চিহ্ন। ভোট দিন সেখানে। আসুন আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করি। সাফল্য অবশ্যই উজ্জিত হবে। সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে- ভবিষ্যতে অগ্রগতি অর্জনের পথ উন্মুক্ত হবে, যে কারণে আমরা বলেছি দেশের চাবি আপনার হাতে দরজাটা খুলুন সামনে এক অপরিমেয় সম্ভাবনা আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ভিন্ন-ভিন্ন মত থাকবে, কিন্তু এক জায়গায় নদীর বহু স্রোত থাকে মোহনা একটাই। সেই মোহনায় মিলতে হবে সেই মোহনা বাংলাদেশ, সেই মোহনা হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র।
বিশেষ অতিথি ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন- রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। এছাড়া মতবিনিময় সভায় রাজশাহী বিভাগের সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন।