গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে নিরাপত্তা দিতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ ও নৌসেনা পাঠানোর যে আহ্বান জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপ।
ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র গতকাল সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউ’র সদরদপ্তরে এ ইস্যুতে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিভাগের প্রধান কাজা কাল্লাস এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “এই উন্মুক্ত যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের কোনো আগ্রহ নেই এবং ইইউ’র কোনো সদস্যরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার সামরিক পদক্ষেপে সক্রিয় ভাবে সংশ্লিষ্ট হতে ইচ্ছুক নয়।”
কাজা কাল্লাসের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি পাওয়া গেছে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আন্তোনিও তাজানির কণ্ঠেও। ইইউ’র বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর মিশনগুলো বর্তমানে বিভিন্ন সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিচ্ছে এবং জলদস্যু বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। সেসব দায়িত্ব ছেড়ে এই মুহূর্তে মিশনগুলোর পক্ষে হরমুজে আসা সম্ভব নয়।
“যদি সম্ভব হতো, তাহলে আমরা অবশ্যই হরমুজ প্রণালিতে আমাদের নৌসেনা-যুদ্ধজাহাজ পাঠাতাম, কিন্তু এই মুহূর্তে তা সম্ভব নয়। ইইউ’র নৌবাহিনীর মিশনগুলো বিভিন্ন সাগরে তাদের দায়িত্ব পালন করছে।
সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিশ মের্ৎস। তিনি সাংবাদিকের এ ইস্যুতে সরাসরি এবং স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠাতে চাই না। কারণ আমরা চাই এই সংকট রাজনৈতিকভাবে সমাধান হোক।”

