ভারতীয় সেনাবাহিনী যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুকরণে বঙ্গোপসাগরে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের কমব্যাট লঞ্চ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। সোমবার (২ ডিসেম্বর) বঙ্গোপসাগরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে পরীক্ষা চালানো এই মিসাইলটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনে তার উচ্চগতির স্থিতিশীলতা ও কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর দক্ষিণ কমান্ড এবং তিন বাহিনীর আন্দামান-নিকোবর কমান্ড যৌথভাবে এই পরীক্ষাটি চালায়। দ্য হিন্দু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সম্পূর্ণ মিশনটি ছিল অত্যন্ত সমন্বিত ও সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পিত। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, উন্নত গাইডেন্স ও কন্ট্রোল সিস্টেমযুক্ত এই মিসাইলটি উচ্চগতির স্থিতিশীলতা ও নির্ভুল বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো পরিবেশে পরিচালিত এই পরীক্ষায় সব ধরনের অপারেশনাল লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। এতে সেনাবাহিনীর ব্রহ্মস ইউনিটগুলোর প্রস্তুতি এবং উদীয়মান যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর দক্ষিণ কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ সফল এই পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। সফল এই পরীক্ষা সেনাবাহিনীর দূরপাল্লার নির্ভুল হামলার সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং দেশীয়ভাবে তৈরি মিসাইল ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও কার্যকারিতা তুলে ধরেছে।
উল্লেখ্য, ব্রহ্মস মিসাইলের পাল্লা বা রেঞ্জ এর নির্দিষ্ট সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়। মিসাইলটির আসল বা প্রারম্ভিক সংস্করণের পাল্লা ছিল ২৯০ কিলোমিটার। তবে, বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক সম্প্রসারিত পাল্লার সংস্করণগুলো ৪৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর আরও উন্নত কিছু সংস্করণের পাল্লা ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা যায়। এছাড়া, ব্রহ্মস-২ হাইপারসনিক নামে পরবর্তী প্রজন্মের একটি মিসাইল সংস্করণ উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে, যার প্রত্যাশিত পাল্লা ১,৫০০ কিলোমিটার এবং গতিবেগ ম্যাক ৮ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

