মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইরানের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন ও রাশিয়া। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার নিন্দা জানিয়ে তারা যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়। পাশাপাশি, সংঘাতের ভয়াবহ আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছে দেশ দুটি।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘সব পক্ষকে আমরা আহ্বান জানাই, যেন অবিলম্বে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় যা উত্তেজনা হ্রাস করবে এবং এই অঞ্চলকে আর বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেবে না। আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ তৈরি করতে হবে।’ চীন পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, তারা ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা লঙ্ঘনের বিপক্ষে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো সংঘাত বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে এমন পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করে তারা।
রাশিয়াও একই সুরে কথা বলেছে। জাতিসংঘে দেওয়া এক বিবৃতিতে মস্কো বলেছে, তারা ইরানকে যুক্ত করে যে কোনো সামরিক উত্তেজনা বাড়ানো বা আগ্রাসনের তীব্র বিরোধিতা করে এবং এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনাকেই একমাত্র পথ হিসেবে বিবেচনা করে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের ইরানি হুমকির প্রশ্নে চীনের পক্ষ থেকে সরাসরি সমর্থন জানানো হয়নি। চীনা মুখপাত্র শুধু বলেছেন, ‘এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ুক, তা কেউই চায় না।’
চীন ও রাশিয়া উভয়েই কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে উত্তেজনা নিরসনের ওপর জোর দিয়েছে। ইসরায়েল ও ইরানে অবস্থিত চীনা দূতাবাসে হামলার পর নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে বেইজিং। চীনা কর্তৃপক্ষ দেশটির নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে, ২০২৪ সালের অক্টোবরেও একই রকম অবস্থান নিয়েছিল চীন, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
