ঐতিহাসিক ল্যুভর জাদুঘরে সংঘটিত দুঃসাহসিক রত্নচুরির ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং জাদুঘরের মূল্যবান কিছু রত্ন ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক অব ফ্রান্স’-এর ভূগর্ভস্থ ভল্টে স্থানান্তর করেছে।
শনিবার ফরাসি রেডিও স্টেশন আরটিএলের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, গত সপ্তাহে প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা দুর্বলতা প্রকাশ পাওয়ার পরই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়।
অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে আরটিএল আরও জানায়, ফরাসি রাজমুকুটের রত্নভাণ্ডার ‘অ্যাপোলো গ্যালারি’ থেকে কিছু মূল্যবান রত্ন শুক্রবার পুলিশের কড়া পাহারায় গোপনে ব্যাংক অব ফ্রান্সে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে।
ব্যাংক অব ফ্রান্সের বিশাল ভূগর্ভস্থ ভল্টটি মাটির প্রায় ২৭ মিটার নিচে অবস্থিত, যেখানে দেশটির সোনার মজুতও সংরক্ষিত থাকে। প্রতিষ্ঠানটি ল্যুভর জাদুঘর থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে সাইন নদীর তীরে অবস্থিত।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে ল্যুভর জাদুঘর ও ব্যাংক অব ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এর আগে, গত ১৯ অক্টোবর প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যায় চাঞ্চল্যকর রত্নচুরির ঘটনা। প্রায় ১০ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের আটটি মূল্যবান রত্ন চুরি করে নিয়ে যায় একদল দুর্ধর্ষ চোর।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চোরের দলটি দর্শনার্থীদের উপস্থিতির মধ্যেই ক্রেন ব্যবহার করে ওপর তলার জানালা ভেঙে জাদুঘরে প্রবেশ করে। মাত্র সাত মিনিটের মধ্যেই তারা রত্ন নিয়ে মোটরবাইকে পালিয়ে যায়।
বিশ্বের সর্বাধিক দর্শনীয় জাদুঘর হিসেবে ল্যুভরের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। তবে এই ঘটনার পর জাদুঘরের নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। অনেকে এই ঘটনাকে ‘জাতীয় অপমান’ হিসেবেও দেখছেন বলে জানিয়েছে ফরাসি গণমাধ্যম।

