টালিউড অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেন ও তার মা আত্মহননের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে সেই দুঃসহ সময়ের কথা বর্ণনা করেছেন এই অভিনেত্রী।
২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ঐন্দ্রিলার বাবা শান্তনু সেন। তখন ঐন্দ্রিলার বয়স ২০ বছর।
সেই দিনের ঘটনা বর্ণনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, আমি কোলাঘাটের কাছে একটি শুটিংয়ে গিয়েছিলাম। সঙ্গে আমার মা ছিলেন। মাত্র আধা ঘণ্টা আগেই বাবার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল। হঠাৎ মায়ের কাছে একটি ফোন আসে, বাবার এক্সিডেন্ট হয়েছে, আমরা যেন তাড়াতাড়ি চলে যাই।
কলকাতার বেহালা শীলপাড়া এলাকায় একেবারে মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন ঐন্দ্রিলা। এ অভিনেত্রীর ভাষায়, আমরা জানতাম না এটিএম থেকে কীভাবে টাকা তুলতে হয়, কীভাবে ইলেকট্রিক বিল দিতে হয়!
বাবার ওপরে নির্ভরশীল থাকার ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করে ঐন্দ্রিলা বলেন, আমি এবং মা সম্পূর্ণ বাবার ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। শ্মশানে বসেও আমি বলেছিলাম, ‘বাবাকে বলো বাবা সব এনে দেবে।’ বাবাকে যে এত তাড়াতাড়ি হারিয়ে ফেলব, সেটা কল্পনাও করতে পারিনি।
আমি হয়তো ভাবতেও পারিনি, আমার সঙ্গে আমার বাবা নেই। সেই সময়টা ভীষণ কঠিন ছিল।
এ পরিস্থিতিতে ঐন্দ্রিলা ও তার মা আত্মহননের চিন্তাও করেছিলেন। এ তথ্য স্মরণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, আমরা বাজার করতে জানতাম না, কোথায় গহনা থাকে সেটাও জানতাম না। এক কথায় আমি আর আমার মা সম্পূর্ণ বাবার ওপর নির্ভরশীল ছিলাম।
একটা সময় আমি আর মা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমরা আত্মহত্যা করব। অনেক কষ্টে সেই সময় থেকে বেরিয়ে এসেছি।
রবি কিনাগী নির্মিত ‘বন্ধন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ঐন্দ্রিলার। ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জিৎ-কোয়েল অভিনীত এ সিনেমায় পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। বর্তমানে ভারতীয় বাংলা সিনেমার ব্যস্ত অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা।বর্তমানে তার হাতে রয়েছে ‘সাজঘর’, ‘চন্দ্রবিন্দু’ সিনেমার কাজ।