মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকট, আকাশসীমা বন্ধ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত এক মাসে বড় ধরনের ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী ও মধ্যপ্রাচ্যফেরত মোট ৮৫৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
তবে একই সময়ে সীমিত পরিসরে মোট ১,১৯০টি ফ্লাইট পরিচালিত বা পরিকল্পিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রোববার (২৯ মার্চ) রাতে বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান- এই কয়েকটি দেশের আকাশসীমা আংশিক বা পূর্ণভাবে বন্ধ থাকা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই এই বিপর্যয় তৈরি হয়েছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া প্রবাসী কর্মী, ট্রানজিট যাত্রী এবং পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীদের ওপর।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি জটিল হলেও ওমান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-গামী কিছু ফ্লাইট ধাপে ধাপে চালু রাখা হয়। বিশেষ করে মার্চের মাঝামাঝি থেকে কিছু রুটে ফ্লাইট চলাচল বাড়তে থাকে।
তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি পরিচালিত হয় ৬টি ফ্লাইট, ১ মার্চ ২০টি, ২ মার্চ ১৮টি, ৩ মার্চ ২২টি, ৪ মার্চ ৩৫টি, ৫ মার্চ ৩৮টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ৩৯টি, ৮ মার্চ ৩১টি, ৯ মার্চ ৪০টি, ১০ মার্চ ৪২টি, ১১ মার্চ ৩৬টি, ১২ মার্চ ৪৮টি, ১৩ মার্চ ৩৭টি, ১৪ মার্চ ৪৪টি, ১৫ মার্চ ৪৯টি, ১৬ মার্চ ৪০টি, ১৭ মার্চ ৪৫টি, ১৮ মার্চ ৪৫টি, ১৯ মার্চ ৪৫টি, ২০ মার্চ ৩৬টি, ২১ মার্চ ৩৭টি, ২২ মার্চ ৩৮টি, ২৩ মার্চ ৪৫টি, ২৪ মার্চ ৫০টি, ২৫ মার্চ ৪৫টি, ২৬ মার্চ ৫০টি, ২৭ মার্চ ৪৩টি, ২৮ মার্চ ৩৭টি, ২৯ মার্চ ৪৫টি এবং ৩০ মার্চ (পরিকল্পিত) রয়েছে ৫০টি ফ্লাইট।
এই সময়ে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর বড় অংশ ছিল ওমানের মাস্কাট, সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্য এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহ-গামী।
সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট গেছে সৌদি আরব ও আমিরাতে
বিমানবন্দর সূত্রের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মার্চজুড়ে পরিচালিত ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল সৌদি আরবগামী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ফ্লাইট।
বিশেষ করে ২৪, ২৬ ও ৩০ মার্চ- এই তিন দিনে প্রতিদিন ৫০টি করে ফ্লাইট পরিচালিত বা পরিকল্পিত হয়েছে, যা পুরো সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এছাড়া মার্চের দ্বিতীয়ার্ধে দুবাইগামী ফ্লাইটের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি পর্যন্ত দুবাইগামী ফ্লাইট পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় অনেক এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট অপারেশন স্থগিত, পুনঃনির্ধারণ বা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে যেসব রুটে ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান ও ইউএইর আকাশসীমা ব্যবহার করতে হয়, সেসব রুটে শিডিউল বিপর্যয় বেশি হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (৩০ মার্চ) কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের মোট ১৮টি ফ্লাইট বাতিল রয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে- কুয়েত এয়ারওয়েজ- ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া, শারজাহ- ৪টি, গালফ এয়ার, বাহরাইন- ২টি, কাতার এয়ারওয়েজ- ৪টি, এমিরেটস ও ইউএই- ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজ, কুয়েত- ৪টি।

