চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। পর্যবেক্ষকরা পূর্বাভাস দিয়েছে চলতি মাসে একাধিক শৈত প্রবাহ বয়ে যাবে এ অঞ্চলের উপর দিয়ে। সেই ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রির নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু এবং বয়স্করা। তীব্র ঠান্ডায় কাজ করতে না পারায় শ্রমজীবী মানুষ পড়েছে বিপাকে। এই মুর্হূতে শীত বস্ত্রের পাশাপাশি মানুষে খাদ্য সহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতে বোরো আবাদ ব্যহত হতে বসেছে। ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শীতে গবাদি পশুর নানা রোগ বালাই বাড়ছে। ঘটছে প্রাণহানি।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের আবহাওয়া সব সময় ভিন্ন থাকে। বিশেষ করে উত্তরের হিমালয় এবং তারও উত্তরের সাইবেরিয়ান অঞ্চলের কারণে এখানে শীতকালের মৌসূম অনেকটা দীর্ঘ হয়। এরই প্রভাবে পুরো ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসজুড়েই এ অঞ্চলে থাকে শীতের তীব্রতা। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর হেরফের হয় শীতের। তারা বলছেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি মৌসূমে শীতের তীব্রতা অনেকটাই বেশি। মধ্য ডিসেম্বর থেকে উত্তরের হিম বাতাস প্রবাহিত শুরু হওয়ায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। কমছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ঘন কুয়াশার কারণে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় অনেক দিনই সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে করে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক জীতেন্দ্র নাথ রায় জানান, পঞ্চগড় জেলা হিমালয়ের খুব কাছে অবস্থান হওয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নির্ভর করে উত্তরের হিম বাতাসের ওপর।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সেল গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৩ লাখ টাকার শীতবস্ত্র ক্রয়ে প্রস্তুতি চুড়ান্ত। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। সমাজের বিত্তবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জান।