ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রস্তুত আছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল। বৈঠকে পিট হেগসেথ বলেন, “ইরানের পরমাণু বোমার অধিকারী হওয়া উচিত নয় এবং ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে সিদ্ধান্তই নেবেন— তা বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রস্তুত।”
প্রসঙ্গত, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের মূল সমস্যা ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে। ২০১৬ সালে যখন প্রথম মেয়াদে ইরানের প্রেসিডেন্ট হন সে সময় থেকে এই তিক্ততার শুরু। দ্বিতীয় মেয়াদে ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেই তিক্ততা আরও বেড়েছে।
পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে গত বছর জুন মাসে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী সংঘাতও হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের। সেই যুদ্ধে নিহত হয়েছেন ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী। ইরানের পরমাণু প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোরও সমূহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তারপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও তিক্ততা একটুও কমেনি উভয়ের মধ্যে। ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ তা আরও উসকে দিয়েছে। গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কয়েক দিন পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভ দমনে নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন করে— তাহলে দেশটিতে ফের সামরিক অভিযান হতে পারে।
ব্যাপক দমন-পীড়নের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিক্ষোভ শান্ত করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রও এখন পর্যন্ত হামলা চালায়নি, তবে গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বেশ কয়েকটি রণতরীর একটি নৌবহর। মধ্যপ্রাচ্যের সাগরে এই বহরের প্রবেশ ফের ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা উসকে দিচ্ছে।