রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের কমপক্ষে ৫৫ হাজার সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এছাড়া তিনি বলেছেন, বিপুল সংখ্যক ইউক্রেনীয় সেনা এখনও নিখোঁজ রয়েছে। বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফ্রান্সের টেলিভিশন চ্যানেল ফ্রান্স–২-এ প্রকাশিত এক পূর্বধারণকৃত সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এ তথ্য জানান।
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের চতুর্থ বার্ষিকী সামনে রেখে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রাক্কালে সেনা নিহতের ব্যাপারে এ তথ্য দিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। আবুধাবিতে চলমান আলোচনায় ইউরোপের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে বড় সংঘাতের অবসান ঘটানোর চেষ্টা চলছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনাদের সংখ্যা ৫৫ হাজার (পেশাদার হোক বা নিয়োগপ্রাপ্ত)।’ ফরাসিতে অনূদিত তার বক্তব্যে তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই সংখ্যার বাইরে বড় একটি অংশ রয়েছে, যারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত।’ তবে নিখোঁজ সেনাদের সঠিক সংখ্যা কত হতে পারে সে বিষয়টি উল্লেখ করেননি তিনি।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের ৪৬ হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) ধারণা দেয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের প্রায় ৪ লাখ সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন।
এদিকে জাতিসংঘের ইউক্রেনবিষয়ক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন জানায়, ২০২৫ সালে রুশ হামলায় ইউক্রেনে ২ হাজার ৫১৪ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ১২ হাজার ১৪২ জন আহত হয়েছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি।
চলমান যুদ্ধে রাশিয়াও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর প্রধান ওলেক্সান্দ্র সিরস্কি বলেন, শুধু ২০২৫ সালেই ইউক্রেনীয় বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার রুশ সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের এক মূল্যায়নে বলা হয়, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার নিহত বা আহত সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখে।
যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশই সাধারণত নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা প্রকাশ করেনি, যদিও তারা নিয়মিতভাবে প্রতিপক্ষের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জানায়। বিশ্লেষকদের মতে, কিয়েভ ও মস্কো উভয়ই নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি কম দেখিয়ে এবং প্রতিপক্ষের ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে উপস্থাপন করছে।