রিচার্ড ডনার পরিচালিত ‘সুপারম্যান’ সিনেমায় লেক্স লুথরের প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করা হলিউড অভিনেত্রী ভ্যালেরি পেরিন মারা গেছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) মৃত্যু হয়েছে তার। মৃত্যুকালে ৮২ বছর বয়স হয়েছিল এ অভিনেত্রীর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা স্টেসি সাউদার।
বব ফস পরিচালিত ১৯৭৪ সালের লেনি ব্রুসের বায়োপিকে অভিনয়ের জন্য অস্কার মনোনীত অভিনেত্রী পেরিনের ২০১৫ সালে পারকিনসন রোগ শনাক্ত হয়। রোগের সঙ্গে সময় অতিবাহিত নিয়ে ৪৫ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করেন নির্মাতা স্টেসি সাউদার। যা ২০১৯ সালে প্রদর্শিত হয়।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ২০২৩ সালে হলিউড রিপোর্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পেরিনের অসুস্থতার ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে অভিনেত্রী ও তার ভাই, যারা দু’জনই পারকিনসন্স রোগে ভুগছেন, তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টি তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন নির্মাতা স্টেসি সাউদার।
প্রসঙ্গত, পেরিন লাস ভেগাসে একজন শো-গার্ল হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। কিন্তু তার বাগদত্তা বন্দুক আমদানিকারক মানুষটি দুর্ঘটনাবশত নিজের বুকে গুলি চালালে ওই কাজ ছেড়ে দেন তিনি। এরপর চলে আসেন লস অ্যাঞ্জেলেসে। সেখানে সেলিব্রিটি হেয়ারড্রেসার জে সেব্রিংয়ের সঙ্গে প্রেম হয়। কিন্তু পরে শ্যারন টেটেরে বাড়িতে ‘ম্যানসন ফ্যামিলি’ নামক একটি গোষ্ঠীর সদস্যরা হত্যা করে তার প্রেমিককে।
এরপর লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ডিনার পার্টিতে ট্যালেন্ট এজেন্টের নজরে পড়েন তিনি। ১৯৭২ সালে ‘স্লটারহাউজ ফাইভ’ সিনেমার সফট বোল্ড তারকা হিসেবে এবং ১৯৭৩ সালে ‘দ্য লাস্ট আমেরিকান হিরো’ সিনেমায় জেফ ব্রিজেসের রেসিং কার ড্রাইভারের প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।
একই বছর ‘স্টিমবাথ’ নামক একটি পিবিএস নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে মার্কিন টিভিতে ইচ্ছাকৃতভাবে খোলামেলা হয়ে উপস্থিত হওয়া প্রথম নারী অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এতে তার চরিত্রটি ছিল শাওয়ার থেকে বের হয়ে আসা এবং পরবর্তীতে সেটি অলাভজনকভাবে পরিচালিত সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি লাভজনক ফান্ড সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
১৯৭৪ সালে বব ফস পরিচালিত এবং ডাস্টিন হফম্যান অভিনীত বায়োপিক সিনেমা ‘লেনি’তে কৌতুকাভিনেতা রেনি ব্রুসের স্ত্রী স্ট্রিপার হানি ব্রুসের চরিত্রে অভিনয় করেন পেরিন। এতে অভিনয়ের জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন এবং গোল্ডেন গ্লোব ও অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও মনোনীত হন তিনি।
১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে ‘সুপারম্যান’ (১৯৭৮) এবং ১৯৮০ সালের সিক্যুয়েলে জিন হ্যাকম্যানের অপরাধ জগতের প্রধান চরিত্র লেক্স লুথরের প্রেমিকা মিস টেশমাঞ্চারের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। আবার রড স্টাইগারের বিপরীতে একটি বায়োপিকে ডব্লিউসি ফিল্ডসের উপপত্নীর চরিত্রে অভিনয় করেন। ‘দ্য ইলেকট্রিক হর্সম্যান’ (১৯৭৯) সিনেমায় রবার্ড রেডফোর্ডের রোডিও চ্যাম্পিয়নের সাবেক স্ত্রীর চরিত্রেও অভিনয় করেছেন।
পেরিনের উল্লেখযোগ্য চরিত্রের মধ্যে ছিল ১৯৮২ সালের ‘দ্য বর্ডার’ সিনেমায় জ্যাক নিকলসনের স্ত্রী এবং ১৯৮০ সালে সিনেমা ‘কান্ট স্টপ দ্য মিউজিক’-এ অবসরপ্রাপ্ত একজন সুপার মডেলের চরিত্র। ১৯৮৫ সালে ‘ওয়াটার’ সিনেমায় এবং ২০০০ সালের ‘হোয়াট উইমেন ওয়ান্ট’ সিনেমায়ও দেখা গেছে এ অভিনেত্রীকে।

