ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশটির জনগণ ‘অভূতপূর্বভাবে স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে সহায়তা দিতে প্রস্তুত। শনিবার (১০ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প একথা বলেন।
মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট সেখানে লেখেন, ‘ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে— সম্ভবত ইতিহাসে এর আগে কখনও এমনভাবে তারা ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত!!!’ খবর আনাদোলু
গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে ভয়াবহ বিক্ষোভ চলছে। মূলত ইরানি মুদ্রা রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়ন এবং ক্রমাবনত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জেরে এই আন্দোলন শুরু হয়। ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের আশপাশে প্রথম বিক্ষোভ দেখা দিলেও পরে তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার কারণে ইরান ‘গুরুতর সমস্যায়’ পড়েছে। তিনি জানান, ওয়াশিংটন পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং বিক্ষোভকারীদের দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার না করতে ইরানি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন।
এদিকে ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচার বিভাগ কোনও ধরনের সহনশীলতা দেখাবে না।
এছাড়া ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দেশটিতে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করে সতর্কতা জারি করেছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পত্তি রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে থাকা এবং নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস না করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে সামরিক বাহিনী।
আরও পড়ুন: সিরিয়ায় আইএসের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অর্জন রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। বর্তমান পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও সতর্ক করে আইআরজিসি। এছাড়া আইআরজিসি থেকে আলাদা ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী এক ঘোষণায় জানায়, দেশের কৌশলগত অবকাঠামো, জাতীয় স্বার্থ ও জনসম্পত্তি রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে ইরানের মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানায়, ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা ৬৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে। এর মধ্যে ৫০ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অপরদিকে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হেংগাও জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে দেশজুড়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ২ হাজার ৫০০ জন বিক্ষোভকারীকে।
আরও পড়ুন: ইরানে হামলার ব্যাপারে ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ ভাবছেন ট্রাম্প
এমন পরিস্থিতির মধ্যে ইন্টারনেট বন্ধ এবং কিছু এলাকায় সীমিত চালু রেখেছে দেশটির সরকার। পশ্চিম ইরানের এক প্রত্যক্ষদর্শী ফোনে জানান, ওই এলাকায় বিপ্লবী গার্ড মোতায়েন রয়েছে এবং তারা গুলি চালাচ্ছে।

