রমজান আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জনের মাস। কিন্তু শুধু না খেয়ে থাকলেই রোজার পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যায় না। হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে, কিছু মানুষের রোজা বাহ্যিকভাবে আদায় হলেও তা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না।
আরবি বর্ষপঞ্জিকার নবম মাস রমজান আত্মশুদ্ধি, গুনাহ মাফ ও তাকওয়া অর্জনের এক মহিমান্বিত সময়। এ মাসে মহান আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জন্য অসীম রহমত ও সওয়াবের দুয়ার খুলে দেন। অল্প আমলেও অধিক প্রতিদান পাওয়া যায়, যা রমজানকে অন্য সব মাস থেকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছে। মানবজাতির হেদায়াতের দিশারি পবিত্র কুরআনও এ মাসেই নাযিল হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “রমজান মাস—যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে। তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে, সে যেন রোজা রাখে; আর যে অসুস্থ বা সফরে থাকবে, সে অন্য সময়ে তা পূরণ করবে।” (সুরা বাকারা: ১৮৫)
রমজান এলে রহমতের দরজা খুলে যায়। হাদিসে বর্ণিত আছে, এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। এতে বোঝা যায়, রমজান বান্দার জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ।
রোজা কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকার নাম নয়; এটি আত্মসংযম ও চরিত্র গঠনের প্রশিক্ষণ। এক সাহাবী যখন নবী করিম (সা.)-এর কাছে জান্নাতে প্রবেশের আমল জানতে চাইলেন, তিনি আল্লাহর একত্ববাদে অবিচল থাকা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, যাকাত প্রদান ও রমজানের রোজা পালনের নির্দেশ দেন। এতে স্পষ্ট হয়, রোজা জান্নাত লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তবে রোজার প্রকৃত সার্থকতা তখনই অর্জিত হয়, যখন মানুষ মিথ্যা, অন্যায় ও অশালীন আচরণ থেকে বিরত থাকে। হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও খারাপ কাজ ত্যাগ করে না, তার শুধু পানাহার ত্যাগ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই রমজান হোক আত্মশুদ্ধি, সত্যবাদিতা ও তাকওয়া অর্জনের মাস।
