ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এখন আলোচনায় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসেই এ নির্বাচন আয়োজনের আভাস দেওয়ায় মনোনয়ন পেতে দলীয় নেত্রীদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে।
নোয়াখালী থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি নেত্রী ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী। স্থানীয় সূত্র বলছে, তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করে তিনি মনোনয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জন্ম নেওয়া ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তিনি হাতিয়ার প্রখ্যাত জমিদার ও দানবীর আলহাজ আজহার উদ্দিন মিয়ার বংশধর। শিক্ষা জীবনে হাতিয়ার আফাজিয়া স্কুল থেকে এসএসসি এবং হাতিয়া দ্বীপ কলেজ থেকে স্নাতক (বি.এ) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়িত্বের কারণে তা সম্পন্ন করতে পারেননি।
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার জন্য স্থানীয়ভাবে পরিচিত তিনি। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা, চিকিৎসা তহবিল গঠন, দুর্যোগকালীন সহায়তা, মসজিদ-মাদ্রাসায় অনুদান এবং অসহায় পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ঢাকায় চিকিৎসার জন্য আসা বহু রোগীকে নিজ বাসায় আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান স্থানীয়রা।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যক্রমে সহায়তা করেছেন বলে দাবি করেন। অতীতে মামলা, হয়রানি ও নজরদারির মুখেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তার ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করতে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করেছি। দল আমার প্রতি আস্থা রাখবে বলে আশা করি। সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে জনগণের সেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলাম। দলের আদর্শ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পেলে নিজেকে আরও নিবেদিতভাবে সম্পৃক্ত রাখব।”
নোয়াখালীতে সংরক্ষিত নারী আসনে শেষ পর্যন্ত কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

