বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশ পরিচয়ে বাস থেকে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণের বার ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই করা স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), বগুড়ার বিশেষ অভিযানে পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বগুড়া ডিবি কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান সাংবাদিকদের জানান, বগুড়া শহরের গালাপট্টি এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো: খায়রুল ইসলাম গত ৫ অক্টোবর সকালে তাঁর খালাতো ভাই মো: বাপ্পি হোসেনের (২৭) মাধ্যমে ২৪ ক্যারেটের ১০টি তেজাবি স্বর্ণের বার জয়পুরহাটে পাঠান। বারগুলোর মোট ওজন ছিল ১০২ ভরি ১২ আনা।
ওই দিন বেলা আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের উথলি এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজন ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে বাসটি থামান। এরপর তাঁরা বাপ্পি হোসেনকে জোরপূর্বক বাস থেকে নামিয়ে মারধর করেন এবং তাঁর কাছে থাকা স্বর্ণের বার ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। পরে তাঁকে আহত অবস্থায় শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া হাটের মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় খায়রুল ইসলামের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শিবগঞ্জ থানায় ২৭ অক্টোবর মামলা দায়ের করা হয়। বগুড়ার জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো: জাহাঙ্গীর করিব ও এসআই মোহাম্মদ ফজলুল হকের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের প্রথম পর্যায়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তরিনয়হাট এলাকা থেকে মো: সাদিকুল ইসলামকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়।
তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মহিলা কলেজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো: আলমগীর হোসেনকে (৪৩) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আলমগীরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণ বিক্রির ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর এলাকা থেকে মো: রবিউল ইসলাম (২৬) ও মো: আসাদুজ্জামান শাহিদকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর এলাকায় সাদিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে স্বর্ণ বিক্রির আরও ১৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানার বড়মানিক গ্রামের আসাদুজ্জামান শাহিদের গরুর খামারের অফিসকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪১ লাখ টাকা।
এর আগে আলমগীর হোসেনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা ২৯ লাখ টাকাসহ তিনটি স্থান থেকে মোট ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ রয়েছে কি না এবং ছিনতাই হওয়া স্বর্ণের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ।

