সিরাজগঞ্জে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছানোয়ার হোসেন সানুকে গ্রেপ্তার ও দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন ইসলামিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাফিন আহমেদ জিসানের পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় অনশন কর্মসূচি শুরু করেন জিসানের মা শাপলা আহমেদ। পাশাপাশি পরিবারের পক্ষ থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণে তারেক রহমানের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
পরিবারের দাবি, ছানোয়ার হোসেন সানুর বিরুদ্ধে ওঠা হত্যার হুমকি, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা আমরণ অনশনে নেমেছেন।
এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শাপলা আহমেদ অভিযোগ করেন, গত রোববার রাতে ফোনে তার ছেলে শাফিন আহমেদ জিসানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং তার স্বামী সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম ইন্নার পা কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার একটি কল রেকর্ড ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদকের একটি ফেসবুক পোস্ট এবং পরে তার ছেলের দেওয়া বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। এরপর থেকেই ছানোয়ার হোসেন সানু ফোনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাপলা আহমেদ তার ছেলে ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ছানোয়ার হোসেন সানু এবং তার ভাই সনি আহমেদ শামীমকে গ্রেপ্তার এবং ছানোয়ার হোসেন সানুকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। তিনি বলেন, তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় মঙ্গলবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে, সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে শাপলা খাতুন সিরাজগঞ্জ সদর থানায় এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এর আগে গত ১৪ জুন পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর আবেদন করেন সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম ইন্না। পাশাপাশি জেলার পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

