দেশে প্রায় ৭১ লাখ ৬০ হাজার ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ রয়েছে। এগুলো দেশের মোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬১ দশমিক ২ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। তবে এমএসএমই খাতে অর্থায়নের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় ‘ইকোসিস্টেম ম্যাপিং অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক স্টাডি অন এমএসএমই ফাইন্যান্সিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে লাইটক্যাসল পার্টনার্স।
গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশের মোট এমএসএমইর ৯২ দশমিক ৬ শতাংশই ক্ষুদ্র বা মাইক্রো উদ্যোগ। অথচ বিতরণ করা মোট এমএসএমই ঋণের মাত্র ১৪ শতাংশ তারা পেয়ে থাকে। ফলে আনুষ্ঠানিক অর্থায়নে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রবেশে বড় ঘাটতি রয়েছে।
৩২৯টি এমএসএমইর ওপর চালানো জরিপে ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান অর্থের ঘাটতির মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছে। ৮৬ শতাংশ সাধারণত ঋণ নেয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণের জন্য আবেদন করেছে মাত্র ৫৮ শতাংশ। আবেদনকারীদের মধ্যে মাত্র ২ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের ঋণের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
গবেষণায় ডিজিটাল ঋণের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। প্রায় ৮৭ শতাংশ এমএসএমইর অনলাইন বা ডিজিটাল উপস্থিতি রয়েছে এবং ৯৭ শতাংশ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে। কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঋণ পেয়েছে মাত্র ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।
বর্তমানে প্রচলিত ডিজিটাল ঋণের বেশির ভাগই ৫০ হাজার টাকা বা তার কম এবং স্বল্পমেয়াদি। বিপরীতে, প্রায় ৬০ শতাংশ এমএসএমই তিন লাখ টাকার বেশি ঋণ এবং ৮৫ শতাংশ ছয় মাসের বেশি মেয়াদের ঋণ পছন্দ করে।
গবেষণায় নারী উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠান ও সেবা খাতকে ডিজিটাল ঋণের পরীক্ষামূলক উদ্যোগের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ডিজিটাল ঋণ সম্পর্কে আগে ধারণা না থাকা নারী উদ্যোক্তাদের ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ এ ধরনের ঋণে আগ্রহ দেখিয়েছেন। সেবা খাতের ৮৬ শতাংশ ব্যবসাও ডিজিটাল ঋণের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
গবেষণায় ডিজিটাল ঋণ সম্প্রসারণে চারটি পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হলো—ডিজিটাল ঋণের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া, গ্রাহকের সম্মতিভিত্তিক তথ্যব্যবস্থা তৈরি, ছোট অঙ্কের ঋণকে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর করা এবং দায়িত্বশীল আর্থিক উদ্ভাবনের জন্য নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করা।
অনুষ্ঠানে দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের সিনিয়র অ্যাডভাইজার ফিলিপ গ্রাওভাক মূলধন ও নীতিমালার মধ্যে দূরত্ব কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন। প্রধান অতিথি সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং সাবেক অর্থসচিব মুসলিম চৌধুরী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগকে আলাদাভাবে বিবেচনা করে নীতিমালা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।

