একসময় বাংলাদেশের সিনেমায় নায়ক মানেই ছিল বজ্রকণ্ঠ, ঘামে ভেজা শরীর আর মুষ্টিবদ্ধ ঘুসির নায়কত্ব। প্রেম মানে ছিল কর্তৃত্ব, সংবেদন মানে দুর্বলতা।
সেই সময়টিকে বলা যায় সিনেমার ‘রাগী যুগ’। জসিম, সোহেল রানা, মান্না, রুবেল-সবাই ছিলেন সমাজ বদলানো একেকজন মুষ্টিবদ্ধ নায়ক। তারা লড়তেন, জিততেন, রক্তাক্ত হতেন, কিন্তু চোখে জল আসত না।
তবে নব্বইয়ের শুরুতে নায়কের চেহারা বদলে গেল। অস্ত্রের বদলে হাতে এলো গিটার, রাগের জায়গা নিল নীরব ভালোবাসা। ১৯৯৩ সালে কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুক্তি পেলে পর্দায় দেখা দিলেন এক নতুন তরুণ-সালমান শাহ। তিনি ছিলেন না বজ্রকণ্ঠ নায়ক, ছিলেন এক মুগ্ধতার প্রতীক। সংলাপে কোমলতা, চোখে স্বপ্ন, আচরণে সৌন্দর্য।
তিনি দেখালেন, নায়ক মানে শুধু বিজেতা নয়, ভালোবাসতে জানা মানুষও। দর্শক প্রথমবার দেখল, নায়ক কাঁদতে পারে, হারতেও পারে, তবু তার মর্যাদা কমে না। তার হাত ধরেই শুরু হলো ফ্যাশন, ভঙ্গি, সংলাপের নতুন যুগ। রিয়াজ, ফেরদৌস, শাকিল, বাপ্পারাজ-সবাই তার পথ ধরে এগিয়ে গেলেন।
মাত্র চার বছরে ২৭টি সিনেমার মাধ্যমে সালমান শাহ হয়ে উঠলেন এক সময়ের প্রতীক, আজও যার ছায়া দেখা যায় শাকিব খান বা সিয়ামের মতো নায়কের মধ্যে। এখনকার নায়করা যেন সেই দুই যুগের মিশ্রণ-প্রয়োজনে কঠোর, তবু ভেতরে নরম। তারা সমাজের প্রতীক নয় শুধু, ভালোবাসার মানবিক রূপও।
সময়ের সঙ্গে নায়কের এ নরম বিপ্লব প্রমাণ করে, সিনেমা যেমন বদলায়, তেমনি বদলায় নায়কের সংজ্ঞাও।

