ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে আয়োজিত বিফা অ্যাওয়ার্ডসের পঞ্চম আসর ছিল গ্ল্যামার, তারকাখচিত উপস্থিতি এবং সাংস্কৃতিক আবেগে ভরপুর এক স্মরণীয় সন্ধ্যা। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের মধ্য দিয়ে। উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন কে প্রদান করা হয় আজীবন সম্মাননা । আর সেই সম্মাননার আগে মঞ্চে পরিবেশিত হয় এক হৃদয়স্পর্শী সংগীতাঞ্জলি, যা পুরো আয়োজনের আবেগঘন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী স্বপ্নীল সজীব এর সংগীত পরিচালনায় নির্মিত এই বিশেষ ট্রিবিউট ছিল এক সম্মিলিত স্মৃতিচারণের প্রয়াস। সাবিনা ইয়াসমিনের কালজয়ী গানগুলো নতুনভাবে পরিবেশিত হলেও প্রতিটি সুরে যেন ভেসে উঠছিল তাঁর অমলিন শিল্পীসত্তা, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং প্রজন্মজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আবেগের প্রতিধ্বনি।
শিল্পী স্বপ্নীল সজীব এর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সালমা, ঝিলিক এবং পুজা। তাঁদের কণ্ঠের মেলবন্ধন হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত আন্তরিক ও নিবেদিত এক শ্রদ্ধার্ঘ্য, যেখানে পরিবেশনা আর ভালোবাসা যেন একাকার হয়ে গিয়েছিল। এটি ছিল এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের প্রতি সংগীতের মাধ্যমে আবেগ ও ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য প্রয়াস।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে যখন সাবিনা ইয়াসমিন নিজে মঞ্চে উপস্থিত হন। মুহূর্তেই পুরো হল নীরব হয়ে যায়—এক গভীর শ্রদ্ধাভরা নীরবতা, যা করতালির চেয়েও বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে। এরপর দর্শকদের সম্মিলিত দাঁড়িয়ে অভিবাদন যেন স্বীকৃতি জানায় সেই কণ্ঠকে, যা যুগের পর যুগ ধরে বাংলাদেশের সংগীত ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে স্বপ্নীল সজীব বলেন, “কিংবদন্তি সাবিনা ইয়াসমিনের গান শুধু সংগীত নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। তাঁর উপস্থিতিতে সেই গান পরিবেশন করা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি।”
এছাড়াও একই সন্ধ্যায় বিচারকদের রায়ে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী স্বপ্নীল সজীব অর্জন করেন ‘সেরা রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী – ২০২৬’ সম্মাননা। গ্ল্যামার আর তারকাখচিত আয়োজনের মাঝেও এই নিরব, আবেগময় শ্রদ্ধার্ঘ্যই হয়ে ওঠে সন্ধ্যার সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়—যা মনে করিয়ে দেয়, শেষ পর্যন্ত একজন শিল্পীকে সত্যিকারের মহান করে তোলে তাঁর উত্তরাধিকার।

