পাবনা মানসিক হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত সৎসঙ্গের প্রতিষ্ঠাতা ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত ‘বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র’ ও ‘মাতৃমন্দির’ ভবনের নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করেছে গণপূর্ত বিভাগ।
হাসপাতালটির সম্প্রসারণ ও আধুনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভবন দুটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ঠাকুরের অনুসারীদের দাবির মুখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২ জুন ) সকালে ‘সৎসঙ্গ বাংলাদেশ’-এর একটি প্রতিনিধি দল পাবনা জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবন দুটি রক্ষার দাবি জানান। এরপরই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিলাম স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহ-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত আদিত্য জানান, ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ ও বিজ্ঞানমনস্ক জীবনযাপনের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। যার মধ্যে অন্যতম ছিল তার মায়ের স্মৃতিরক্ষার্থে নির্মিত ‘মাতৃমন্দির’ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে তৈরি ‘বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র’। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত ও অনুরাগীর কাছে এই স্থানটি অত্যন্ত পবিত্র এবং গভীর আবেগের এক তীর্থভূমি।
সম্প্রতি গণপূর্ত বিভাগ ভবন দুটি নিলামের মাধ্যমে ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা প্রকাশ পেলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ঠাকুরের অনুসারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়।
সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক নিখিল মজুমদার বলেন, সারা পৃথিবীতে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের অন্তত ১০ কোটি ভক্ত আছেন। যারা নিয়মিত এই স্মৃতিবিজড়িত স্থানে তীর্থভ্রমণে আসেন। ভবন দুটি ভেঙে না ফেলে ‘সৎসঙ্গ বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে সংস্কার করে উন্মুক্ত করা হলে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মানুভূতিকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি পর্যটনের মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করতে পারবে।
সৎসঙ্গের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে মানসিক হাসপাতাল এলাকার ভগ্নপ্রায় ভবন দুটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাফকাত ওয়াহিদ এবং গণপূর্ত বিভাগ পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবিরসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তারা সৎসঙ্গের কর্মীদের বক্তব্য শোনেন।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবির জানান পাবনা মানসিক হাসপাতালে বিশ্বমানের আধুনিক ইনস্টিটিউট প্রকল্পের জন্য মোট ১৩টি পুরাতন ও পরিত্যক্ত ভবন অপসারণের জন্য বুধবার থেকে দরপত্র আহ্বান করার কথা ছিল। যার মধ্যে এই দুটি ভবনও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা আপাতত এই দুটি ভবনের নিলাম স্থগিত করেছি। পরবর্তী সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

