কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলন শেষে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে চীন, রাশিয়া, ভারত ও পাকিস্তানসহ ১০ দেশ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত বিবৃতিতে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন এবং তাদের কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশগুলো। খবর আল জাজিরার।
‘বিশকেক ঘোষণা’ নামের এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ এসসিও ভুক্ত অন্যান্য দেশের শীর্ষ নেতারা। রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, বেলারুশ, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান ও কিরগিজ প্রজাতন্ত্র—এই ১০টি দেশ নিয়ে এসসিও গঠিত।
যৌথ ঘোষণায় ‘ইরানের ভূখণ্ডে (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়লের) সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান’ এসসিও নেতারা। তারা বলেন, এই হামলার ফলে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
এসসিও নেতারা উল্লেখ করেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি এই হামলা ‘আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা ও আদর্শকে লঙ্ঘন করে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।’
ঘোষণায় আরও বলা হয়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির মর্মান্তিক মৃত্যুতে সদস্য রাষ্ট্রগুলো ইরানের জনগণ ও সরকারের প্রতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে।’
একই সঙ্গে এসসিও সদস্য দেশগুলো ‘ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং কেবল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাত সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে’।
ঘোষণা পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলাই পুরো পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এসসিও নেতাদের মতে, ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একমাত্র সম্ভাব্য উপায় হলো ফিলিস্তিন সংকটের একটি ন্যায্য সমাধান।’
ইরানের বিরুদ্ধে এবং ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ না করে এসসিও নেতারা যৌথ ঘোষণায় জানান, তারা যেকোনো ধরনের ‘একতরফা জবরদস্তিমূলক (নিষেধাজ্ঞা) ব্যবস্থার’ বিরোধী, যা জাতিসংঘ ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মের পরিপন্থী। এসবের ফলে ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব’ ফেলতে পারে।

