ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। জন্তর মন্তরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। মোদি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার এবং যারা দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করেছে। একইসঙ্গে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ারও দাবি জানিয়েছেন। আন্দোলনকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে।
চলমান বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও। দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন-ডিএমআরসি জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রাজধানীর ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এসব স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্টেশনগুলো আবার চালু করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

