মার্কিন রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লসন বলেছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে ইসরায়েল নিজেদের ‘বিবেক’ হারিয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘চ্যানেল-১৩’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলি কোনো গণমাধ্যমে এটিই ছিল তার প্রথম সাক্ষাৎকার।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সম্প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে কার্লসন বলেন, হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে বিপুল বেসামরিক হতাহতের ঘটনাই ইসরায়েলের ‘নৈতিক অবস্থান হারানোর’ প্রমাণ।
সাক্ষাৎকারে তাকে যুক্তি দিয়ে প্রশ্ন করা হয়, ইসরায়েল আত্মরক্ষার জন্য এসব অভিযান চালাচ্ছে। জবাবে কার্লসন বলেন, তার মূল আপত্তি হলো—যুক্তরাষ্ট্রের অর্থে ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমি ইসরায়েলের সমালোচনা করছি কারণ এর জন্য আমরাই অর্থ দিচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অর্থই ইসরায়েলকে দেয়া উচিত নয়, বিশেষ করে, সামরিক খাতে একেবারেই নয়।’ কার্লসন আরও বলেন, ‘হামাস যদি খারাপ কিছু করে, সেটি অবশ্যই ভুল। কিন্তু সেটি ইসরায়েলের একই ধরনের কাজকে বৈধতা দেয় না। নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা যায় না।’
তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, হামাসের হামলার জবাবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ‘অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া’ ছিল এবং এতে অসংখ্য নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অতীত যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন কার্লসন। তিনি বলেন, ৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রও সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি বহু নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, যা ভুল ছিল।
কার্লসনের ভাষায়, ‘একজন নিরপরাধ শিশুকেও হত্যা করা গ্রহণযোগ্য নয়। সেটিই সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয়।’ এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, ফিলিস্তিনিদের ভোটাধিকার না থাকায় ইসরায়েলকে ‘পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র’ বলা যায় না।
গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে অতীতে ‘গণহত্যা’ বলার প্রসঙ্গ উঠলে কার্লসন বলেন, ‘আপনি একে গণহত্যা, জাতিগত নিধন, অপরাধ বা নৃশংসতা; যা-ই বলুন না কেন, নিরীহ মানুষ হত্যাকে আমি ভুলই মনে করি।’
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চাপে নতি স্বীকার করেছেন। তার দাবি, ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িয়েছে।

