হিমালয়ের বরফের স্তর দ্রুত কমে যাওয়ায় এশিয়ার বৃহৎ অংশে পানিসংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে এই অঞ্চলের বরফের স্তর। আর এর প্রভাব প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জীবনে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, এশিয়ার ‘পানির টাওয়ার’ হিসেবে পরিচিত হিমালয়ের উঁচু অঞ্চলগুলোতে বরফের স্তর দ্রুত কমে যাচ্ছে। কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের (আইসিমড) প্রকাশিত ‘এইচকেএইচ স্নো আপডেট ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলে বরফের স্থায়িত্ব দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে বরফের স্থায়িত্ব দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ কম ছিল। বরফের স্থায়িত্ব বলতে বোঝায়— তুষারপাতের পর কতদিন তা মাটিতে থাকে। এটি মূলত পর্বতের শীতকালীন অবস্থা কেমন থাকে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
হিমালয়ের এই বরফ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক পানিভাণ্ডার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার মাধ্যমে যে পানি সৃষ্টি হয় তা ১২টি বড় নদী অববাহিকায় বছরে মোট পানিপ্রবাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জোগান দেয়। এই নদীগুলো কাবুল থেকে কলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে কৃষি সেচ, পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নগরীর পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সব অঞ্চলে সমানভাবে বরফের স্তরের এই পতন হয়নি। মেকং অববাহিকায় বরফ স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে, যা সবচেয়ে বেশি। তিব্বতি মালভূমিতে বরফের এই ঘাটতি ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
ইয়েলো রিভার ও আমু দরিয়া অববাহিকাতেও উল্লেখযোগ্য হারে তুষার কমেছে। তবে গঙ্গা অববাহিকায় এই শীতে তুষারের স্থায়িত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি ছিল। আর এটি উত্তর ভারতের কিছু অংশের জন্য সাময়িক স্বস্তির বিষয় বলে মনে করা হচ্ছে।
ইন্ডিয়া টুডে বলছে, এটি টানা চতুর্থ বছরের মতো স্বাভাবিকের চেয়ে হিমালয়ে কম তুষার দেখা গেছে। ২০০৩ সালের পর থেকে ১৪টি শীতকালেই এমন ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া হিমবাহগুলো আগের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে গলছে এবং এটি ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘ ও শুষ্ক গ্রীষ্মের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে এখনই দ্রুত সতর্কবার্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, মৌসুমি পানি সংরক্ষণ বাড়াতে হবে এবং কৃষি ও বিদ্যুৎ খাতের মধ্যে সমন্বয় আরও উন্নত করতে হবে। এ ধরনের পরিকল্পনা না থাকলে গ্রীষ্মকালে নদীর পানিপ্রবাহ কমে যেতে পারে, পানীয় জলের ওপর চাপ বাড়বে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার আরও বেড়ে যেতে পারে।

