যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল এবং একাধিক নীতিগত ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন মন্ত্রীকে পদচ্যুত করেন এবং নতুন মুখদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেন।
সবচেয়ে বড় চমক ছিল সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলির অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ। এই সিদ্ধান্তে শুধু রাজনৈতিক মহলই নয়, হিলিও বিস্মিত হয়েছেন বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। খবর বিবিসির।
দায়িত্ব নেওয়ার পরই বার্নহাম সরকার জ্বালানি বিলের ওপর ভ্যাট কমানোর ঘোষণা দেয়। যদিও কনজারভেটিভ পার্টি এই কর কমানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে, তবে এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগে সামরিক ব্যয় নিয়ে বিরোধের জেরে জন হিলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ ছেড়েছিলেন। এখন তাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় অনেকেই এটিকে বার্নহামের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
নতুন মন্ত্রিসভায় ওয়েস স্ট্রিটিং প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং মিয়াটা ফানবুলেহ জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এই দুজনও আগে স্টারমারের সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন।
মনে করা হচ্ছে, বিদ্রোহী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে বার্নহাম একদিকে দক্ষ ব্যক্তিদের কাজে লাগাতে চাইছেন, অন্যদিকে দলীয় ঐক্যও ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে বার্নহামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যানেলিজ মিডজলিকে সংসদীয় লেবার পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ইতোমধ্যেই বরখাস্ত হওয়া কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী সরকারের নীতির সমালোচনা শুরু করেছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, জনমত জরিপে সম্ভাব্য ইতিবাচক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বার্নহাম আগাম নির্বাচন ডাকতে পারেন কি না।
রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ আগাম নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেছেন, বার্নহামের নতুন সরকারের জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নেই। তবে রিফর্ম পার্টির ভেতরেই আশঙ্কা রয়েছে, খুব দ্রুত নির্বাচন হলে দলটি প্রস্তুতির সুযোগ নাও পেতে পারে।
এদিকে লিবারেল ডেমোক্র্যাটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সম্ভাব্য আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
তবে বার্নহাম এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত নির্বাচনে গেলে তিনি নতুন নীতিগুলোর জন্য জনগণের সরাসরি সমর্থন অর্জনের সুযোগ পেতে পারেন এবং পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদের জন্য নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে পারবেন।

