ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস করা হবে না এবং প্রতিবেশী দেশগুলো যতক্ষণ ‘সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া’ অব্যাহত রাখবে, ততক্ষণ সন্ত্রাসীদের ওপর যেকোনো হামলা চালাতে নয়াদিল্লি প্রস্তুত থাকবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির ‘এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
দেশটির এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ভারত সর্বদা শান্তির পক্ষপাতী এবং কোনো যুদ্ধ বা অন্যের ভূখণ্ড দখল করা তাদের লক্ষ্য নয়। তবে শান্তির এই আগ্রহকে যেন কেউ ভারতের দুর্বলতা মনে করার ভুল না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।
রাজনাথ সিং বলেন, ভারত শান্তিতে বিশ্বাসী, যুদ্ধ চায় না। ভারত অন্য কারো জমি দখল কিংবা কাউকে ভয় দেখাতে চায় না। কিন্তু নীরবতা আর দুর্বলতার মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে, তা বোঝা উচিত।
তিনি বলেন, ‘‘আমরা শান্তি চাই, কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তার জায়গায় কোনো আপস করব না। প্রতিবেশী দেশ যতক্ষণ সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেবে, ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হামলা চালানোর জন্য ভারত প্রস্তুত। আমরা তাদের এবং পুরো বিশ্বকে পরিষ্কারভাবে তা জানিয়ে দিতে চাই।
‘প্রতিবেশী দেশ’ বলতে ভারতের এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করেন। দেশটি বছরের পর বছর ধরে এমন সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দিয়ে আসছে, যারা ভারতে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেছে নয়াদিল্লি।
ভারত অভিযোগ করে বলেছে, পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে ভারতে একাধারে বেশ কিছু সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মিরের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পেহেলগামে পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসীদের হামলায় এক নেপালি নাগরিকসহ ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং বহু মানুষ আহত হন।
ওই ঘটনার জবাবে ভারতও পাকিস্তান এবং পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের একাধিক সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ভারতের এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল মুজাফফরাবাদ, কোটলি, ভাওয়ালপুর, রাওলাকোট, চকসওয়ারি, ভিম্বর, নীলম উপত্যকা, ঝিলম ও চকওয়ালের বিভিন্ন সন্ত্রাসী আস্তানা।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ভারত সংলাপে বিশ্বাস করে। কোনো দেশ যদি সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো অব্যাহত রাখে, তাহলে সেখানেই আলোচনার ইতি ঘটবে। ভারত পারস্পরিক সহযোগিতা চায়; কিন্তু তা কখনোই জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নয়।

