সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগে এক শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিককে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বাতিল করেছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুণ হেমাচন্দ্র। খবর বিবিসির।
অভিযুক্ত অনোজন শিবারাসাকে গত সেপ্টেম্বরে একটি সৌদি আপিল আদালত এই মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। এই রায়ের পর শ্রীলঙ্কায় চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক ক্ষমা প্রার্থনার জোর প্রচেষ্টা শুরু হয়।
শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুণ হেমাচন্দ্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে জানান, বুধবার শিবারাসার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে সৌদি আরবের একটি শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে দুই দেশের কর্মকর্তা এবং আইনজীবীদের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত জুন মাসের শেষ দিকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক মুসলিম তরুণকে হিন্দু পুণ্যার্থীদের অনুসরণ করা একটি কুকুরকে লাথি মারতে দেখা যায়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইন্টারনেটে ধর্মীয় বিতর্ক শুরু হয়।
অনলাইন বিতর্কের এক পর্যায়ে এক ব্যবহারকারী হিন্দু দেবী সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করেন। এর জবাবে শিবারাসাও তামিল ভাষায় মহানবী (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে বসেন।
পরে শিবারাসা দ্রুত সেই মন্তব্য মুছে একটি ক্ষমাপ্রার্থনার ভিডিও পোস্ট করেন। তবে মন্তব্যটির স্ক্রিনশট তার নিয়োগকর্তা এবং সৌদি কর্মকর্তাদের নজর এড়ায়নি। এর জের ধরে গত জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শিবারাসাকে আর কোনও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে কি না কিংবা তাকে কতদিন কারাগারে থাকতে হবে, সে বিষয়ে এখনও সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে আল-আহসা ফৌজদারি আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা) জরিমানা করেছিল।

