ইরানের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পুরো যুদ্ধজুড়ে তারা যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে, তা পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে তেহরান। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতের কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও দুই চিরশত্রু দেশই এখনো এক অচলাবস্থায় আটকে আছে।
তেহরান তখন থেকে বিশ্বের তেল ও গ্যাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির বন্দর ও অর্থনীতিকে অবরুদ্ধ করার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বলেছেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমাদের বার্তা ও শর্তাবলির ব্যাখ্যা অপর পক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী বাঘের গালিবাফ আরও বলেন, ‘যতক্ষণ না শর্তগুলো পূরণ হচ্ছে… এবং মার্কিন প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আলোচনার পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া ও প্রণালিটি উন্মুক্ত করে দেওয়া অসম্ভব হবে।’
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই শনিবার জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের শর্তগুলো পাঠিয়েছে।
আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহসেন রেজাই বলেন, ‘আমাদের শর্তগুলো হলো- সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, আমাদের জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়া ও আমাদের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া।’
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি আলোচনার জন্য রোববার তেহরান সফর করবেন।
এদিকে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল মিলিটারি কমান্ড রোববার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে সরাসরি হুমকি জারি করেছে।
এ বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি যে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে অঞ্চলে থাকা দেশটির সব ঘাঁটি ও স্বার্থ কোনো সীমা বা বাধা ছাড়াই ধারাবাহিক, কার্যকর ও বেদনাদায়ক আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

