ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে পরমাণু অস্ত্র ঠেকানোর চেয়ে দেশের মানুষের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কম রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এমন মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানো হবে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার। বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ডন।
ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমি জানি, আজ তেলের দাম কমেছে এবং সংঘাতের শুরুর দিকের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় এখন অনেকটাই কম।’
তিনি বলেন, ‘(আমাদের) প্রথম লক্ষ্য হলো—দেশজুড়ে আমেরিকানদের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কম রাখা’। তিনি আরও বলেন, ‘এরপর দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো— ইরান যেন কখনোই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।’
এদিকে ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এরই প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিশ্ববাজারে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সপ্তাহের হিসাবেও দাম বাড়ার পথে রয়েছে তেল।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৩ ডলার বা ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৫৬ ডলার বা ১ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধ চালিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনা থমকে যাওয়ায় তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর হুমকিও দেয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিউজম্যাক্সের ‘রব শ্মিট টুনাইট’ অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে আরও কিছু ঘোষণা আসছে। এ বিষয়ে নজর রাখুন। কারণ ইরানের ওপর এমন অর্থনৈতিক চাপ আমরা দিতে যাচ্ছি, যা কোনও দেশের বিরুদ্ধে এর আগে কখনোই দেয়া হয়নি।
রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই হুমকি এমন সময়ে এলো, যখন ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের দৈনিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
এদিকে সপ্তাহের শেষ দিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মাসের গড় সংখ্যার চেয়েও নিচে নেমে গেছে। একই সময়ে সমুদ্রপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরবিরোধী দাবি করছে।
এমন বাস্তবতায় বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়েছে বলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানিয়েছে। ঘটনাটিকে ইরানের হামলা বলে নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার।

