ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান উপলক্ষে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে এক সপ্তাহের জন্য ছুটি দিয়েছেন বলে ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি মীমাংসায় পৌঁছাতে ইরান ‘মুখিয়ে আছে’ বলেও দাবি করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সাউথ ডাকোটা অঙ্গাজ্যে মাউন্ড রুশমোর জাতীয় স্মৃতিসৌধের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে প্রদত্ত ভাষণে তিনি বলেন. “আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী তৈরি করেছি। আমরা দু’টি বিশ্বযুদ্ধ দেখেছি। তারপর শীতল যুদ্ধের জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্টের শত্রুদের ইতিহাসের গভীরে নিক্ষেপ করেছি।”
“আমরা ভেনেজুয়েলাকে এক দিনে পরাজিত করেছি। ইরানের দফারফা করেছি। তারা একটি মীমাংসার জন্য মুখিয়ে আছে। মনেপ্রাণে একটি চুক্তি চায় তারা। আমরা তাদের জানাজা ও শোকের জন্য এক সপ্তাহের ছুটি দিয়েছি, কারণ আমরা উদার।”
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো গণতান্ত্রিক দেশ উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, “আগামীকাল ৪ জুলাই আমরা ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছি। এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আমরা এই পৃথিবীর সবচেয়ে মুক্ত, স্বাধীন মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান এই বিশ্বের সবচেয়ে ন্যায়নিষ্ঠ ও সহনশীল সংবিধান।”
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। অভিযানের প্রথম দিনই তেহরানে স্ত্রী, পুত্রবধু এবং নাতনিসহ নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি টানা ৩৬ বছর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় খামেনির ছেলে এবং ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
খামেনি নিহত হওয়ার পর তার দেহ ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এবার তাকে দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রী সরকার। এ উপলক্ষে আজ ৪ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ৬ দিন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শোক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

