মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের আশপাশে অবস্থান অব্যাহত রাখবে। স্থানীয় সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) দেয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই উপস্থিতি বজায় রাখা হবে যতক্ষণ না তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া চুক্তির শর্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করছে।
ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইরান যদি চুক্তি মানতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ফের সামরিক হামলা শুরু করবে।’ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তার নৌবাহিনীর জাহাজ ও যুদ্ধবিমানকে কৌশলগতভাবে ইরানের কাছের অঞ্চলে মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন একদিকে যেমন চাপ বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য কোনো সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতেও চায়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে এমন বক্তব্য নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা উসকে দেবে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন করে চরমে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির চুক্তি ঘোষণার পরই লেবাননে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- যুদ্ধবিরতির চুক্তির পরই ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় লেবাননে একদিনে অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন, যা চলমান সংঘাতের সবচেয়ে ভয়াবহ দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির দাবি, মাত্র ১০ মিনিটেরও কম সময়ে প্রায় ১০০টি স্থানে আঘাত হানা হয়েছে। তবে এসব হামলায় অসংখ্য বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ এই হামলাকে ‘গুরুতর যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এটি তাদের প্রতিরোধ আরও জোরদার করবে। সংগঠনটির ভাষায়, নিরীহ মানুষের ওপর এমন আঘাত তাদের লড়াইয়ের সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করেছে।

