মুম্বাইয়ের একটি ফ্ল্যাট থেকে জিম্মি হওয়া ১৭ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত রোহিত আর্য নিহত হয়েছে। ভারতের মুম্বাইয়ে পোয়াই এলাকায় ১৯ জনকে জিম্মি করে রাখার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রোহিত আর্য নামের এক ব্যক্তি তাদের জিম্মি করে। জিম্মিদের মধ্যে ছিলেন ১৭ জন শিশু, এক প্রবীণ ব্যক্তি ও এক অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষ।
পুলিশি অভিযানে গুলিবিনিময়ের সময় বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। এ ঘটনায় আহত প্রবীণ ব্যক্তিকে দ্রুত বালাসাহেব ঠাকরে ট্রমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে জিম্মি হওয়া ১৭ শিশুকে।
পুলিশ জানায়, দুপুর প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাস্থল থেকে জরুরি কল পাওয়ার পর পোয়াই ও সাকিনাকা থানার টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। মুম্বাই পুলিশের সিনিয়র অফিসার এবং কুইক রেসপন্স ইউনিটের সদস্যরাও অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সব শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।’
রোহিত আর্য ঘটনার আগে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে চান। তিনি হুমকি দেন, তার চাহিদা পূরণ না হলে তিনি তার নিজের এবং শিশুদের ক্ষতি করবেন এবং সবকিছুতে আগুন লাগিয়ে দেবেন।
অবশেষে এক পুলিশ কর্মকর্তা ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে আর্যার কাছ থেকে একটি এয়ারগান এবং কিছু রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জিম্মি করার পেছনে কারণ ছিল কাজের পাওনা-সংক্রান্ত আর্থিক বিরোধ।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। তারা মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থান থেকে একটি বিজ্ঞাপনের অডিশনে অংশ নিতে ফিল্ম স্টুডিওতে এসেছিল। কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের মতে, উদ্ধার অভিযানের সময় আর্য পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, যার ফলে পুলিশও পাল্টা এক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ভিডিওতে আর্য অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রীর ‘আমার স্কুল, সুন্দর স্কুল’ কর্মসূচির অধীনে চালু হওয়া “পিএলসি স্যানিটেশন মনিটর প্রকল্প”-এর জন্য তিনি ২ কোটি টাকার কাজ করেও ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে কোনো অর্থ পাননি। তিনি বলেন, তার ‘লেটস চেঞ্জ’ অভিযানের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি ২০১৩ সালে শুরু হয়েছিল, কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ না মেলায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। এ নিয়ে দুবার অনশনও করেছিলেন তিনি।

