রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, চলমান যুদ্ধে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে যাচ্ছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, আগামী শনিবার (৯ মে) থেকে সোমবার (১১ মে) পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে। খবর আল জাজিরার।
ট্রাম্প লেখেন, আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি (৯, ১০ ও ১১ মে) কার্যকর হবে।
এর কিছুক্ষণ পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে দেওয়া পোস্টে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সমঝোতা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সহকারী ইউরি উশাকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে টেলিফোন যোগাযোগের মাধ্যমে এই সমঝোতা হয়েছে। তিনি জানান, সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ট্রাম্পের ফোনালাপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় দিবস উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে রাশিয়া একতরফাভাবে ৯ মে বিজয় দিবস উপলক্ষে দুই দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল। ইউক্রেনও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল বলে জানালেও দাবি করে, মস্কো তা উপেক্ষা করেছিল।
ট্রাম্প বলেন, এই অনুরোধ আমি সরাসরি করেছি। যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ায় তিনি পুতিন ও জেলেনস্কি- দুই নেতাকেই ধন্যবাদ জানান।
মর্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, যুদ্ধবিরতির সময় সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ থাকবে এবং উভয় দেশ এক হাজার করে যুদ্ধবন্দি বিনিময় করবে। জেলেনস্কিও বন্দি বিনিময়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা চলমান রয়েছে। আমরা প্রতিদিনই সমাধানের আরও কাছে পৌঁছাচ্ছি।
২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করাকে বড় প্রতিশ্রুতি করেছিলেন ট্রাম্প। এমনকি তিনি দাবি করেছিলেন, ক্ষমতায় ফিরেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ থামাতে পারবেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী শান্তিচুক্তি সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে শান্তি আলোচনায় সবচেয়ে বড় জট তৈরি হয়েছে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে। অঞ্চলটির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। মস্কো চায় ইউক্রেন বাকি অংশ থেকেও সেনা প্রত্যাহার করুক, তবে কিয়েভ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য মায়ামিতে পৌঁছেছেন বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

