ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন খসড়া পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করেছেন ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। জেনেভায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
স্থানীয় সময় রোববার (২৩ নভেম্বর) রাতে জেনেভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া পরিকল্পনা ঘিরে এ বৈঠক হয়।
জেনেভায় ইউক্রেন ও ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ আলোচনাকে বড় ধরনের অগ্রগতি বলে জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে খুব শিগগিরই একটি শান্তি পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ন্যাটোর ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়ে এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। তবে তার দল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২৮ দফার অমীমাংসিত অনেক বিষয়ের ব্যবধান কমিয়ে আনতে পেরেছে।
বৈঠক ঘিরে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান জানান, আলোচনা অগ্রগতির দিকে গেছে এবং তারা এমন একটি শান্তি কাঠামোর দিকে এগোচ্ছেন যা দীর্ঘস্থায়ী হবে।
কিয়েভ জানায়, যুদ্ধবিরতির পথে অগ্রগতি স্বাগত জানালেও, যদি কোনো প্রস্তাবে সার্বভৌম ভূখণ্ড হস্তান্তর, সেনাবাহিনী দুর্বল করা বা ন্যাটোতে যোগদানে বাধা থাকে তবে এ ধরনের শর্ত গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রতিনিধিদল আরও জনায়, শান্তির নামে ইউক্রেনকে দুর্বল করার যেকোনো উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলে আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেও তারা জোর দিয়ে বলে, ন্যূনতম জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ না থাকলে কোনো সমঝোতাই টেকসই হবে না।
জেলেনস্কি শিগগিরই সরাসরি বৈঠকের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারেন বলেও জানান ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিরা।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার করা পরিকল্পনা মেনে নিতে ইউক্রেনকে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরইমধ্যে রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘কোনো কৃতজ্ঞতা দেখায়নি’ ইউক্রেন। তার কয়েক মিনিট পরই জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।
ইউক্রেন থেকে মুক্তি পাওয়া বেলারুশে আটক ৩১ নাগরিকের প্রত্যাবর্তনেও ট্রাম্প প্রশাসনের ‘কার্যকর ভূমিকা’র জন্যও কৃতজ্ঞতা জানায় কিয়েভ।

