মালদ্বীপে গভীর সমুদ্রে ডাইভিং করতে গিয়ে পাঁচ বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা সবাই ইতালির নাগরিক। মালদ্বীপের ভাভু অ্যাটলে পানির ৫০ মিটার গভীরে গুহা অনুসন্ধানের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য মালদ্বীপে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ ডাইভিং দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, মালদ্বীপে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে পাঁচ ইতালীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানায়, ভাভু অ্যাটলে প্রায় ৫০ মিটার গভীর পানির নিচে গুহা অনুসন্ধানের চেষ্টা করার সময় তারা প্রাণ হারান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মালদ্বীপের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পানির নিচে প্রায় ৬০ মিটার গভীর একটি গুহা থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি চারজনও একই গুহায় রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনী জানায়, বিশেষ সরঞ্জামসহ ডুবুরিদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। ভারত মহাসাগরীয় ছোট এই দ্বীপরাষ্ট্রে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ ডাইভিং দুর্ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।
মূলত প্রবাল দ্বীপঘেরা মালদ্বীপ পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গন্তব্য। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে পাঁচ ইতালীয় ডুবুরি পানিতে নামেন। পরে তারা আর ভেসে না উঠলে যে ডাইভিং জাহাজে তারা ছিলেন, তার কর্মীরা নিখোঁজের খবর দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানী মালের প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণের ওই এলাকায় আবহাওয়া ছিল প্রতিকূল। যাত্রীবাহী নৌযান ও জেলেদের জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। পরে জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, নিহতদের মধ্যে একজন সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক, তার মেয়ে এবং দুই তরুণ গবেষক ছিলেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়টি নিহতদের প্রতি ‘গভীর শোক’ প্রকাশ করেছে। মালদ্বীপে ডাইভিং ও স্নরকেলিং দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
গত ডিসেম্বরে এলাইধু দ্বীপ রিসোর্টের কাছে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে এক ব্রিটিশ নারী ডুবুরি মারা যান। পাঁচ দিন পর অসুস্থ হয়ে মারা যান তার স্বামীও। এছাড়া ২০২৪ সালে লহাভিয়ানি অ্যাটলে স্নরকেলিং করার সময় এক জাপানি আইনপ্রণেতার মৃত্যু হয়েছিল।

