বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে অধিক পরিমাণে স্বল্পসুদে ও সহজশর্তে অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, সহজলভ্য জলবায়ু অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার এবং প্রযুক্তি সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামে (এইচএলপিএফ) স্বল্পোন্নত দেশসমূহের পক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে ড. তিতুমীর বলেন, ক্রমবর্ধমান ঋণঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) হ্রাস, ডিজিটাল বৈষম্যের বিস্তার এবং সাশ্রয়ী অর্থায়নের সীমিত প্রবেশাধিকার স্বল্পোন্নত দেশসমূহের ২০৩০ অ্যাজেন্ডা ও দোহা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বল্পোন্নত দেশসমূহের টেকসই উন্নয়নের জন্য ন্যায্য ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা, ন্যায্য ঋণ সমাধান ব্যবস্থা গড়ে তোলা, জলবায়ু অর্থায়নে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, উন্নয়নবান্ধব বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ডিজিটাল রূপান্তরে সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।
ড. তিতুমীর বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের সময়সীমা পূরণে পাঁচ বছরেরও কম সময় বাকি থাকলেও স্বল্পোন্নত দেশসমূহ এখনো বহুমাত্রিক কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং দোহা কর্মসূচির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমন্বিত ও কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের এখনই উপযুক্ত সময়।
অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, স্বল্পোন্নত দেশসমূহ ২০৩০ অ্যাজেন্ডা ও দোহা কর্মসূচি বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে তাদের বাস্তব চাহিদা ও ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়ে আরও ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।

