মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ‘গ্লোবাল লিডারশিপ সামিট-২০২৬’ এ বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে এনেছেন তরুণ সংবাদ উপস্থাপক, শিক্ষক ও মডেল জোবায়ের হক ফাহিম। নেতৃত্ব, উদ্ভাবন এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আয়োজিত এই বৈশ্বিক সম্মেলনে বিশেষ সম্মাননা ‘সাইলেন্ট স্ট্রেংথ অ্যাওয়ার্ড’ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অংশগ্রহণ সনদ অর্জন করেছেন তিনি।
কুয়ালালামপুরের এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন (এপিইউ)-তে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশ্বের ১৪টি দেশের ৩৫০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্ব ফাতিহা আয়াত। তিনি একজন জলবায়ু ও শিশু অধিকারকর্মী এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের নিয়মিত বক্তা। তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ ও এসডিজি অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই তিনি এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মটির আয়োজন করেন।
সম্মেলনে জোবায়ের হক ফাহিম তাঁর দলের পক্ষ থেকে ‘প্রজেক্ট পিউরস্টেপ’ শীর্ষক একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করেন। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গড়ে তোলা এবং এই প্রকল্পটিকে দীর্ঘমেয়াদে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তাঁর এই উপস্থাপনা জাতিসংঘের এসডিজি-৩ (সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ), এসডিজি-৪ (মানসম্মত শিক্ষা) এবং এসডিজি-১৭ (লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বিচারকদের প্রশংসা কুড়ায়।
পুরো সম্মেলনজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের নেতৃত্বের দক্ষতা, উপস্থাপনার মান এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি মূল্যায়ন করেন এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ফারাহ হানিফ (মালয়েশিয়া), ড. সারভিন্দার কৌর সান্ধু (ভারত), ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার অধ্যাপক ফাতমির শেহু (আলবেনিয়া) এবং ড. নাজমুস সায়াদাত (বাংলাদেশ)।
তাঁদের এই যৌথ মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেতৃত্বে গঠনমূলক অংশগ্রহণ ও অসাধারণ উপস্থাপনার স্বীকৃতিস্বরূপ জোবায়ের হক ফাহিমকে ‘সাইলেন্ট স্ট্রেংথ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।
জোবায়ের হক ফাহিমের এই আন্তর্জাতিক অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতার এক অনন্য উদাহরণ। তাঁর এই সাফল্য ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব ও এসডিজি বাস্তবায়নে দেশের আরও বহু তরুণকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

