টাঙ্গাইলের সখীপুরে কুকুরের কামড়ে ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ জন আহত হয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে ভ্যাকসিন সংকটের কারণে অনেকেই ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে চিকিৎসা নিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৫৪ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। আহতদের মধ্যে দুই-তিনজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই সখীপুর পৌরসভা, কালিয়া ইউনিয়ন, বহেড়াতৈল ইউনিয়ন, কাকড়াজান ইউনিয়ন ও গজারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। এদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ এবং ২১ জন নারী রয়েছে। ১০ বছরের নিচে শিশু রয়েছে ৯ জন। ৬০ বছরের উপরে বয়স্ক রয়েছে ৭ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে আরবী (৪), রাসেদা (৪৫), শাজাহান (৩৫) নামের তিনজন কুকুরের কামড়ে আহত রোগী আসার পর থেকে হঠাৎ করে রোগীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। দুপুর পেরিয়ে রাত হয়ে গেলেও রোগী বাড়তেই থাকে। সোমবার সকালে একই অবস্থা থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা দিয়েছে ভ্যাকসিন সংকট।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, হঠাৎ করে উপজেলায় কুকুরের এমন ভয়াবহ আক্রমণে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এভাবে চলতে থাকলে বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে যাওয়া, সাধারণ মানুষের চলাফেরা করতে সমস্যা হবে। তিনি দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ সিকদার বলেন, রাস্তাঘাটে বের হতে ভয় লাগছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আমরা খুব চিন্তায় আছি। কুকুরগুলো হঠাৎ করে আক্রমণ করছে। বেয়ারিশ কুকুরগুলো দ্রুত ভ্যাকসিনেশের আওতায় নিয়ে আসার অনুরোধ জানান।
সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিকদার মো. সবুর রেজা বলেন, প্রতিদিনই নতুন নতুন মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় হাসপাতালে দেখা দিয়েছে ভ্যাকসিন সংকট। ফলে রোগীদের চিকিৎসা নিতে সমস্যা হচ্ছে। জরুরি ভ্যাকসিন ব্যবস্থা না করা গেলে, সাধারণ মানুষের সেবা পেতে সমস্যা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহানা পারভীন বলেন, ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়েছি। আহতরা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। ভ্যাকসিন স্বল্পতার কারণে আমরা সবাইকে ভ্যাকসিন দিতে পারিনি। যতটুকু সম্ভব আমরা দিয়েছি, বাকিটুকু বাহিরের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে চিকিৎসা নিচ্ছে।

