বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসি নামা মানেই যেন রেকর্ডের খাতা নতুন করে লেখা। আজ আরও একবার ফুটবল বিশ্ব দেখল মেসির সেই জাদুকরী রূপ। শুরুতে পেনাল্টি মিসের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষণ দিয়ে ম্যাচ শুরু হলেও, শেষ পর্যন্ত জোড়া গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে গেছেন এই আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। মেসির এমন রেকর্ড গড়ার রাতে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
পেনাল্টি মিসের অনাকাঙ্ক্ষিত শুরু
ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৮ মিনিট। ডি-বক্সে লাউতারো মার্টিনেজ ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আলবিসেলেস্তেরা। ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা লিওনেল মেসি স্পট কিক নিতে এলে পুরো স্টেডিয়ামে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে মেসির নেওয়া শটটি পোস্টের বাইরে চলে যায়।
এই পেনাল্টি মিসের সাথে সাথেই বিশ্বকাপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে ঘানার আসামোয়া জ্ঞানের পাশে নাম লেখালেন মেসি। বিশ্বকাপের মূল ম্যাচে (টাইব্রেকার বাদে) এটি মেসির তৃতীয় পেনাল্টি হাতছাড়া করার ঘটনা। এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপে আইসল্যান্ড এবং ২০২২ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।
ক্লোসেকে ছাড়িয়ে বিশ্বরেকর্ড ও টানা ৬ ম্যাচের কীর্তি
পেনাল্টি মিসের সেই হতাশা কাটাতে মেসির লেগেছে মাত্র ৩০ মিনিট। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে ফাকুন্দো মেদিনার বাড়ানো পাস থেকে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে অস্ট্রিয়ার জাল কাঁপান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এই গোলের সাথে সাথেই ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার (১৭ গোল) একক সিংহাসনে বসেন মেসি।
একই সাথে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের টানা ৬ ম্যাচে গোল করার ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬ ম্যাচে গোল করার অনন্য এক কীর্তিও এখন মেসির, যেখানে তাঁর আগে নাম রয়েছে কেবল ফ্রান্সের জাঁ ফন্টেইন (১৯৫৮) এবং ব্রাজিলের জাইরজিনহোর (১৯৭০)।
শেষ মুহূর্তে মেসির জোড়া গোল ও জয় নিশ্চিত
১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করার পর দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়া সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। রালফ রাংনিকের শিষ্যরা বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালালেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ তা সহজেই প্রতিহত করেন।
ম্যাচ যখন ১-০ ব্যবধানেই শেষ হওয়ার পথে, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমে (৯০+৫ মিনিটে) অস্ট্রিয়ান ডিফেন্সের জটলার ভেতর থেকে বল আদায় করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের জয়সূচক গোলটি করেন মেসি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৮-তে, যা পুরুষ ও নারী উভয় ফুটবল মিলিয়েই বিশ্বকাপে যেকোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।
ম্যাচ সংক্ষেপ:
আর্জেন্টিনা: ২ (মেসি ৩৮’, ৯০+৫’)
অস্ট্রিয়া: ০
ম্যাচের সেরা: লিওনেল মেসি (জোড়া গোল ও নতুন বিশ্বরেকর্ড)

