মেক্সিকোর গোলবারে দুই দশকের বেশি সময় ধরে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় ছিলেন গুইলেরমো ওচোয়া। বিশ্বকাপের মঞ্চে তার দুর্দান্ত সেভে মুগ্ধ হয়েছে কোটি ফুটবলপ্রেমী। সেই দীর্ঘ ২২ বছরের বর্ণাঢ্য পথচলার ইতি টেনে এবার গ্লাভস তুলে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মেক্সিকোর এই কিংবদন্তি গোলরক্ষক।
২০০৪ সালে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আমেরিকার হয়ে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করেন ওচোয়া। মেক্সিকোতে জন্ম নেওয়া প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে তিনি ইউরোপে পাড়ি জমান। ক্যারিয়ারজুড়ে মেক্সিকো, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, পর্তুগাল ও সাইপ্রাসের একাধিক ক্লাবে (আজাসিও, মালাগা, গ্রানাডা, স্তান্দার্দ লিয়েগ, সালেরনিতানা, এভিএস ফুটবল ও এইএল লিমাসোল) খেলে নিজের ক্যারিয়ারকে করেছেন সমৃদ্ধ।
দীর্ঘ পথচলায় অভিজ্ঞতা, ধারাবাহিকতা ও দুর্দান্ত গোলরক্ষণের মাধ্যমে ক্লাব পর্যায়ে লিগ শিরোপা ও বেলজিয়ান কাপ জিতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি।
২০০৫ সালে মেক্সিকো জাতীয় দলে অভিষেকের পর দীর্ঘদিন দলের আস্থার প্রতীক ছিলেন ওচোয়া। ছয়টি বিশ্বকাপের (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) স্কোয়াডে থাকা এই তারকা গোলরক্ষক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্ব ফুটবলের অনন্য এক রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। জাতীয় দলের হয়ে ৬টি কনকাকাফ গোল্ড কাপ জেতার পাশাপাশি টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদকও জয় করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপের মঞ্চেই সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল ওচোয়ার নাম। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে স্বাগতিক ব্রাজিলের বিপক্ষে তার অবিশ্বাস্য সব সেভ আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের রবার্ট লেভানডফস্কির পেনাল্টি ঠেকিয়ে আবারও প্রমাণ করেন, বড় মঞ্চে তিনি কতটা নির্ভরতার নাম।
পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় ওচোয়া লিখেছেন, ‘গোলরক্ষক হওয়ার মানেই হলো একটিমাত্র সেরা মুহূর্তের জন্য পুরো ৯০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করা। ওই সময়ে ভুল করার কোনো সুযোগ থাকে না। আমি কখনো ভাবিনি একটি স্বপ্ন এত দূর নিয়ে আসবে।’
ক্যারিয়ারজুড়ে নিজের সেরাটা দিতে পেরেছেন জানিয়ে সতীর্থ, পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। কোটি মানুষের ভালোবাসা আর দেশের হয়ে সর্বস্ব দেওয়ার শান্তি নিয়েই গ্লাভস তুলে রাখছেন বলে জানান এই মেক্সিকান তারকা।
ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজটেকা মাঠে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন ওচোয়া। খেলা শেষে দীর্ঘদিনের চেনা সেই গোলপোস্টে চুমু খেয়ে আবেগে ভেসে বিদায় জানান তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও ওচোয়ার কীর্তি মুছে যাওয়ার নয়। অদম্য পারফরম্যান্স আর মেক্সিকোর ফুটবলে অনবদ্য অবদান তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

