মাত্র ২৪ বছর বয়সে নিজের স্বপ্নকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক নাহিদ আলম। দীর্ঘ দেড় বছরের গবেষণা, সংগ্রাম এবং নিরলস পরিশ্রমের ফল হিসেবে তাঁর উদ্ভাবিত আইনভিত্তিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ‘লেক্সগ্লোবাল বিডি’ এখন চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেইতুয়ানের অধীনে পরিচালিত হতে যাচ্ছে।রাজশাহীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ আলম ২০২৪ সালে একটি বিজ্ঞান উৎসবে সাফল্য অর্জনের পর দেশের আইনগত সেবা ও প্রযুক্তিকে একত্রিত করার লক্ষ্য নিয়ে লেক্সগ্লোবাল বিডির কাজ শুরু করেন।
শুরুতে এটি ছিল একটি স্বপ্ন, কিন্তু ধীরে ধীরে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে। প্রকল্পটির যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ, জনবল সংকট এবং নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। অনেক সময় সমালোচনা, নিরুৎসাহ এবং ব্যর্থতার আশঙ্কাও সামনে এসেছে। কিন্তু লক্ষ্য অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয়ে তিনি থেমে যাননি।
লেক্সগ্লোবাল বিডি বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং আইনভিত্তিক প্রযুক্তি সেবার সমন্বয়ে তৈরি এই উদ্যোগ গত কয়েক মাসে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নজর কাড়ে। অবশেষে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেইতুয়ান প্রকল্পটির দায়িত্ব গ্রহণ এবং এর ভবিষ্যৎ উন্নয়নে অংশীদার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
চুক্তি অনুযায়ী, মেইতুয়ান নাহিদ আলমকে প্রায় ৩ কোটি টাকা সমমূল্যের কোম্পানির শেয়ার প্রদান করবে। পাশাপাশি লেক্সগ্লোবাল প্রকল্প থেকে তিনি আজীবন ১৫ শতাংশ রয়্যালটি পাবেন বলে জানা গেছে। আগামী ২০ জুলাই চীনে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন ও দায়িত্ব হস্তান্তর কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
নাহিদ আলম বলেন,আমি বিশ্বাস করি, স্বপ্ন কখনো ছোট হয় না। অনেক বাধা এসেছে, অনেকেই সন্দেহ করেছে, কিন্তু আমি জানতাম একদিন এই পরিশ্রমের মূল্য মিলবে। এই অর্জন শুধু আমার নয়; এটি বাংলাদেশের তরুণদের স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সাহসের প্রতীক।প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, লেক্সগ্লোবাল বিডির এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনা, গবেষণা এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে দেশের তরুণরাও বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম।
একসময় যে স্বপ্নটি শুরু হয়েছিল একজন তরুণের ছোট্ট উদ্যোগ হিসেবে, আজ সেটিই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ একটি সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনে পরিণত হয়েছে। ২৪ বছর বয়সে নাহিদ আলমের এই অর্জন দেশের অসংখ্য তরুণ উদ্যোক্তা ও গবেষকের জন্য অনুপ্রেরণার নতুন অধ্যায় হয়ে থাকবে।

