সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কাল সিলেট সিক্সার্স-রংপুর রাইডার্সের ম্যাচটা ছিল যেন বিনোদনে ভরা। এই ম্যাচে রংপুর হেরেছে ২৭ রানে।
এই ম্যাচে সবচেয়ে দেখার মতো দৃশ্য ছিল সিলেট-ইনিংসের ১৯তম ওভারে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে অফ স্পিনার গেইলের বল খেলতে একটু সমস্যাই হচ্ছিল ওয়ার্নারের। টি-টোয়েন্টিতে উদ্ভাবনী শট নিত্যই খেলেন ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু ওয়ার্নার যেন আরও এক কাঠি সরেস। পুরো ব্যাটিং স্ট্যান্সই বদলে ফেললেন, চোখের পলকে বাঁহাতি থেকে হয়ে গেলেন ডানহাতি! রংপুর চমকে গেল সিলেটের অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের কৌশল দেখে। দ্রুত ফিল্ড সেটিং বদলাতে গিয়ে একটু হিমশিমই খেতে হলো রংপুরকে। ফিল্ডারদের পজিশন বদলানো গেল। কিন্তু হঠাৎ এ ধরনের কৌশলে মানসিকভাবে যে হতভম্ব হয়ে যাওয়া সেটি থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি মাশরাফিরা।
হঠাৎ ডানহাতি বনে যাওয়া ওয়ার্নারকে আটকাবেন কীভাবে, গেইলও যেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। মাঝ স্টাম্প বরাবর বলটা শুধু ঝুলিয়ে দিলেন। ওয়ার্নার সেটিকে একেবারে গেইলের মাথার ওপর দিয়ে সোজা আছড়ে ফেললেন বাউন্ডারির ওপর। একজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ডান হাতে এত জোর! ছক্কা মেরেই ফিফটি করলেন ওয়ার্নার। কাল বোলার গেইলকে নাচিয়ে ছাড়লেন ওয়ার্নার। ক্যারিবীয় তারকা পরের বল আবারও মাঝ স্টাম্প বরাবর দিলেন ঝুলিয়ে, সিলেট অধিনায়ক এবার স্কয়ার লেগ দিয়ে সজোরে করলেন প্যাডল সুইপ। শেষেরটি আরও অভিনব, এবার রিভার্স সুইপ মেরে বাউন্ডারি!
রংপুরের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা বোলার শফিউল ইসলামও স্বীকার করলেন ওয়ার্নারের হঠাৎ ডান হাতি হয়ে যাওয়ায় তাঁরা বেশ অবাকই হয়েছেন, ‘সে তো ডান হাতে ব্যাটিং করে, রিভার্স সুইপ ভালো খেলে। সে মনে করেছে এতে খেললে সফল হবে, সফল হয়েছে। ও ভালো করেছে। এটা অবাক হওয়ার মতোই। নিজের পরিকল্পনায় সে সফল হয়েছে।’
শফিউল ভুল বলেননি, ওয়ার্নার ডান হাতে ব্যাটিং আগেও করেছেন। তাছাড়া গলফও খেলে থাকেন ডান হাতে। এই স্ট্যান্সে ব্যাটিং করতে তিনি যথেষ্ট অনুশীলনও করেন নেটে। কিন্তু ম্যাচে সেটির সফল প্রয়োগ, শুধু অবাক করার মতোই নয়, মুগ্ধ করার মতোও।
নিউজ ডেস্ক / বিজয় টিভি