গোটা বিশ্বের বাঙালি সম্প্রদায়ের কাছে এক স্মরণীয় মুহূর্তে, নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার সাক্ষী রইল এক হৃদয়ছোঁয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের, যেখানে খ্যাতনামা বাংলাদেশি শিল্পী স্বপ্নীল সজীব পরিবেশন করলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লালন শাহ ও হাসন রাজার কালজয়ী সকল কবিগান। এই অনন্যসাধারণ অনুষ্ঠানটি উদযাপন করল পয়লা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল)-কে নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেট-এর সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনাকে। ব্রঙ্কসের সিনেটর লুইস আর. সেপুলভেদা-র নেতৃত্বে পাশ হয় এই ঐতিহাসিক প্রস্তাব। গান শেষে আবেগময় এক বক্তব্যে স্বপ্নীল সজীব বলেন-
“বাংলাদেশে জন্ম ও বড় হওয়া একজন শিল্পী হিসেবে নিউ ইয়র্কের মতো শহরের প্রাণকেন্দ্রে আমাদের মহান কবিদের গান গাওয়া শুধু গর্বের নয়, এক বিশাল দায়িত্ব। এই গানগুলো কেবল সংগীত নয়-এরা হল আত্মিক সাধনা, দর্শন, আর আমাদের অস্তিত্বের প্রমাণ। আজ যখন আমাদের সন্তানরা দেশ থেকে দূরে বড় হচ্ছে, তখন এইভাবে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা ওদের শিকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে।”
তিনি আরো বলেন, “এই কবিগানগুলো নিছক গান নয়-এরা ভাবতে শেখায়, গভীরভাবে অনুভব করতে শেখায়, প্রশ্ন তুলতে শেখায়, আর মানবতাকে ভালোবাসতে শেখায়। রবীন্দ্রনাথ, লালন, আর হাসন রাজার জ্ঞানভাণ্ডার নতুন প্রজন্মের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া মানে এমন কিছু মূল্যবোধ তাদের মধ্যে গড়ে তোলা, যেগুলো সর্বকালীন আর সর্বজনীন।”
এই অনুষ্ঠানটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিল বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নুরুল আমিন বাবু ১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এসে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে। তাঁর উদ্যোগেই আন্তর্জাতিক লালন উৎসব, রবীন্দ্র উৎসব এবং টাইমস স্কোয়ারে বাংলা নববর্ষ উদযাপন আজ এক বার্ষিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
পুরো অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে বেঙ্গলী ক্লাব,ইউএস এ এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নুরুল আমিন বাবু।
সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির চূড়ান্ত মুহূর্তটি আসে যখন গভর্নর ক্যাথি হোকুল গত বছর নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেট চেম্বারে বাঙালি-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্যদের নিয়ে এক বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করেন। এই মিলনমেলায় উঠে আসে বাঙালির সংস্কৃতির সম্মান, ঐতিহ্য ও বিশ্বমঞ্চে তার বিকাশের নতুন দিগন্ত।

