ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিস্তার রোধে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসব্যাপী ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন অভিযান-২০২৬’ শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস বাস্তবায়ন উপলক্ষে জরুরি মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এডিস মশার লার্ভা বেশি উৎপন্ন হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে।
তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—বছরের এই সময়ে এডিস মশার লার্ভা বেশি হয় এবং ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ে। এ আশঙ্কা থেকেই আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জেলা ও উপজেলা পরিষদগুলো জুমের মাধ্যমে যুক্ত থাকবে।
তিনি বলেন, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও মহানগর এলাকায় এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস এবং অন্যান্য ময়লা পরিষ্কারে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হবে। কলেজ, হাইস্কুল ও মাদ্রাসায় প্রতি শনিবার শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাবেন। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো তাদের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
মীর শাহে আলম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে দক্ষিণ সিটির প্রশাসককে আহ্বায়ক এবং উত্তর সিটির প্রশাসককে যুগ্মসচিব করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির উপদেষ্টা থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় সারা দেশে রেড এলার্ট দেওয়া জেলা ও উপজেলার প্রত্যেক হাসপাতালে পাঁচটি করে বেড রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রয়োজনে রেড মার্কিং এলাকার উপজেলাগুলোতে পাঁচটির পরিবর্তে ১০টি বেড রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত হাসপাতাল নিয়েও সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত পরশু দিন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৩৭ জন মারা গেছেন। চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন কিংবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন—এমন রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০।
তিনি জানান, খুলনা, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগী বেশি। বরিশালেও রোগী বেশি, বিশেষ করে পিরোজপুরে। অন্যদিকে সিলেট ও রংপুরে রোগী নেই বললেই চলে এবং রাজশাহীতে কিছু রোগী রয়েছে।
পিরোজপুরে ডেঙ্গু বাড়ার কারণ হিসেবে নারকেল ও সুপারি গাছ কাটার পর গোড়ায় জমে থাকা পানিকে এডিস মশার লার্ভার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ ধরনের পানি জমে থাকলে তা ধ্বংস করার আহ্বান জানান। ডেঙ্গুর চিকিৎসায় পর্যাপ্ত স্যালাইন ও পরীক্ষার কিট রয়েছে বলেও জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, গতকাল থেকে ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডে প্রতি ঘণ্টায় দুই থেকে তিনবার ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতামূলক ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের জন্যও প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ করেছেন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই তিন মাসব্যাপী এই প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

