ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে তাকে সরাসরি প্রশ্ন করায় এক সাংবাদিকের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘বোকার মতো প্রশ্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা তিনি নাকচ করছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সম্ভাবনাটি নাকচ করে দিচ্ছি, এর কোনো কারণ নেই। আসলে, এটা কী বোকার মতো প্রশ্ন!’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান ইতোমধ্যেই সামরিকভাবে সম্পূর্ণ পরাজিত হয়েছে, তাই পারমাণবিক সংঘাতের কোনো প্রয়োজন নেই।’ ইরানকে পরাজিত করার বিষয়ে নিজের বক্তব্যে অটল থেকে মার্কিন প্রসিডেন্ট বলেন, ‘তারা তো পুরোপুরি পরাজিত। আমি তাদের পরাজিত করলাম, আর এর ওপর আবার তাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করব? কী বোকার মতো প্রশ্ন!’
গালফ নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প নতুন কোনো পারমাণবিক নীতি ঘোষণা করেননি। তিনি শুধু বলেছেন, এমন অস্ত্র ব্যবহারের ‘কোনো কারণ নেই’। এর আগে একটি পডকাস্টে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের সাবেক সন্ত্রাস দমন উপদেষ্টা জো কেন্ট জানান, প্রচলিত সামরিক পদ্ধতিতে ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। এরপর এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উত্তেজনা
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা হরমুজ প্রণালির কাছে লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি রকেট উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা চালায়। জুলাইয়ের শেষের পর এটিই ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই উৎক্ষেপণকারী স্থাপনাগুলো থেকে সমুদ্র মাইন বহনকারী রকেট মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছিল। এতে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল হুমকিতে পড়তে পারত।
ইরান হামলার নিন্দা জানিয়ে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানে পাল্টা হামলা চালায়। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, ইরান থেকে তাদের আঞ্চলিক জলসীমার ওপর দিয়ে আসা একটি ড্রোন প্রতিহত করেছে তারা।
তবে ট্রাম্প আরও সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তিনি সর্বশেষ মার্কিন হামলাকে ‘সীমিত’ বলে উল্লেখ করে প্রয়োজন হলে ওয়াশিংটন আবার ইরানকে আঘাত করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

