যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হবে। ওয়াশিংটনে বৈরুত-তেল আবিব শীর্ষ বৈঠকের পর শুক্রবার (১৫ মে) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এ তথ্য নিশ্চিত করে।
গত ১৬ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। যদিও উভয় পক্ষ থেকে খুব কম সময়ই এই যুদ্ধবিরতি মানা হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের বিমান ও ড্রোন হামলার বিপরীতে উত্তর ইসরাইলের হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ‘১৬ এপ্রিলের সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানো হয়েছে, যাতে অগ্রগতি আরও এগিয়ে নেওয়া যায়।’ পররাষ্ট্র দফতর আরও জানিয়েছে, ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত ইসরাইল-লেবানন আলোচনা ছিল ‘খুবই ফলপ্রসূ’। দুই দেশ আগামী ২ ও ৩ জুন আবারও আলোচনায় বসবে।
ওয়াশিংটনে বৈঠকের পর লেবাননের প্রতিনিধিদল বলেছে, ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ‘স্থায়ী স্থিতিশীলতার’ পথ খুলে দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানোর পর লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রতিনিধিদলটি বলেছে, ‘লেবাননের প্রতিনিধিদল আজকের এই ফলাফলকে স্বাগত জানায়।’
‘যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা আমাদের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির সুযোগ করে দেবে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করবে এবং স্থায়ী স্থিতিশীলতার দিকে একটি রাজনৈতিক পথকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
এদিকে আলোচনার মধ্যেই শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালায় ইসরাইল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট ইসলামিক হেলথ কমিটির তিনজন প্যারামেডিক নিহত হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরাইলি হামলাটি দক্ষিণ লেবাননের হারুফে অবস্থিত ইসলামিক হেলথ কমিটির কেন্দ্রকে ‘সরাসরি লক্ষ্যবস্তু’ করে চালানো হয়, এতে তিনজন প্যারামেডিক নিহত এবং চতুর্থজন গুরুতরভাবে আহত হন।

