ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রবর্তন এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করে বলেন, রাজ্যের আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের কারণে ধর্মান্তর ও জনসংখ্যার কাঠামোতে পরিবর্তন ঘটছে। আর এটি পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক কাঠামো এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কিছুটা সময় দিন। পশ্চিমবঙ্গে ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে একটি কঠোর আইন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং এনআরসি চালু করা হবে।’’
শুভেন্দু বলেন, বিজেপি সরকার সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি সরবরাহ করেছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত ও বিতাড়িত করার জন্য সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আটক কেন্দ্র স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে প্রবেশ করছে এবং ভারতের সংস্কৃতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে, তাদের ফেরত পাঠানো হবে। অবৈধ অভিবাসী এবং নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইনের (সিএএ) আওতাভুক্ত শরণার্থীদের মাঝে পার্থক্যের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের এই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে যে হিন্দুরা ভারতে এসেছেন; তারা ‘‘অনুপ্রবেশকারী নন’’ এবং এই আইনের অধীনে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘‘যারা এখানে বাস করেও দেশের প্রতিরক্ষাবাহিনীকে অপমান করেন, অপারেশন সিঁদুরের বিরোধিতা করেন, পেহেলগাম ঘটনা নিয়ে নীরব থাকেন এবং কেবল মানবতার কথা বলেন, রাজ্যে তাদের এই ধরনের কার্যকলাপ করতে দেওয়া হবে না।’’

